সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে দেয়া কথা কেউ না রাখলেও তামিম কিন্তু হাতুরুসিংহেকে দেয়া কথা ঠিকই রেখেছেন। তবে তেত্রিশ বছরতো দূরের কথা তেত্রিশ দিনও লাগে নি।

সম্প্রতি তামিম ইকবাল যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। ফিরে পেয়েছেন তার সেই বর্ণিল অতীত। ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা বইয়েই দিচ্ছেন রীতিমতো। বিপিএল থেকে শুরু। পিএসএলও মাতিয়ে এসেছেন বাঁ-হাতী এই ড্যাশিং ক্রিকেটার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য হয়ে উঠেছেন যমদূত। প্রথম ম্যাচে ৮৩ রানের হার না মানা দুর্বার এক ইনিংস। পরের ৪৭ রানে থেমেছেন। আর ১৩ মার্চ ওমানের বিপক্ষে এসে ইতিহাসই গড়লেন ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি এই ড্যাশিং ওপেনার।

৬৩ বলে ১০ চার ও ৫ ছয়ে ১০৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেও অপরাজিত তামিম। এমন একটি ইনিংস খেলার পর বড় করেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন বাংলাদেশ ওপেনার। একই সঙ্গে কোচ চন্দ্রিকা হাতুরুসিংহেকে দেয়া কথা রাখতে পেরে নিজেও অনেক আনন্দিত।

সুপার টেন নিশ্চিত হওয়ার পর তামিম এ নিয়ে বলছেন, কোচের সাথে কথা হয়েছিল সবার আগে কে সেঞ্চুরি করবে। বলেছিলাম আমিই আগে সেঞ্চুরি করব। সৌভাগ্যবশত আজ হয়ে গেছে। এমন অনেক ওয়াদাই করি কিন্তু অনেক কিছুই হয় না।

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সেঞ্চুরি করায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে যে হই হুল্লোড় পড়ে গেছে তেমন নয়। তামিম বললেন, দুই রান করে আসলে যেমন সাড়া পাই সেঞ্চুরি করে এসে তেমনই সাড়া পেয়েছি। আমি মনে করি এটাই হওয়া উচিত। একদম স্বাভাবিক ছিল। আর আমি মনে করি ভালো খেললেও দলের সবাই যেভাবে সাথে থাকে শূন্য করলেও সেভাবে থাকবে।

তামিমের এই কৃতিত্বে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হলো। একদিকে এটি যেমন টি-টোয়েন্টিতে তামিমের প্রথম শতক তেমনি বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানেরও প্রথম।

এমআইএস।