আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সাংসদ ও শ্রমিক নেতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের ৬৪তম জন্মদিন।

২০০৪ সালের ৭ মে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছিলেন আহসানউল্লাহ মাস্টার।সে সময় তিনি গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন।

এ ঘটনার পরদিন তাঁর ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ২০০৪ সালের ১০ জুলাই পুলিশ অভিযোগপত্র দায়ের করে। ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার (বর্তমানে গাজীপুর জেলা) পুবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে আহসান উল্লাহ মাস্টার জন্মগ্রহণ করেন।

আহসান উল্লাহ মাস্টারের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের হায়দরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষা জীবন শেষ করে টঙ্গী হাইস্কুলে ভর্তি হন।আহসান উল্লাহ ১৯৬৫ সালে টঙ্গী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত তৎকালীন কায়েদে আজম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারী কলেজ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। আহসান উল্লাহ ১৯৭০ সালে ডিগ্রী পাস করেন।

ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলা পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ করার জন্য টঙ্গী-জয়দেবপুরের জন্য যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটির সদস্য ছিলেন আহসান উল্লাহ মাস্টার।তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে "মুজিব তহবিল"-এর জন্য প্রতিটি কুপন ১০ পয়সা করে বিক্রয় করেন।

১৯৬৯ সালে টঙ্গীর নোয়াগাঁও-তে এমএ মজিদ মিয়া হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি।পরবর্তীতে তিনি ঐ স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক (১৯৭৭-১৯৮৪) ও প্রধান শিক্ষকের (১৯৮৪-২০০৪) দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে আমৃত্যু পালন করেন।

তিনি শিক্ষকদের নেতা ছিলেন। টঙ্গীর শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন।

আহসান উল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্যাতিত হন।আহত অবস্থায় আহসান উল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে ডাঙ্গা, পুবাইল, টঙ্গী, ছয়দানাসহ বিভিন্ন স্থানে গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রাজনীতি যখন পেশী ও অর্থশক্তির হাতে বন্দী, তখন এই ব্যতিক্রমী জননেতার নীতি ও আদর্শ অনুকরণীয়। টঙ্গীর শিক্ষক সমিতির নেতা হিসেবে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সব কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে শিক্ষকদের কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। তাঁর ঘাতকরা বিচারিক আদালত থেকে শাস্তি পেয়েছে এবং আইনগত চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী। অন্যদিকে জননেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার যে অসুস্থ রাজনীতি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

ইআর