আজ ১৭ নভেম্বর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী।১৯৭৬ সালের ১৭ ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করে।
আবদুল হামিদ খান ভাসানী বিংশ শতাব্দির ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশের মানুষ এই কিংবদন্তী নেতাকে "মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানি" হিসাবে চিনেন এবং জানেন।
যারা তার জীবন নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন তারা মওলানা ভাসানী সম্পর্কে অবলিলায় বলেন,"এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নির্যাতিত মানুষের নেতা মাওলানা ভাসানী"।
১৮৮০ সালের ফেরুয়ারি মাসের সিরাজগঞ্জে হাজী শরাফত আলী খানের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ইসালামিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে ভারতে অবস্থিত উপমহাদেশের বিখ্যাত কওমী মাদরাসা দেওবন্দে অধ্যয়ন শুরু করেন। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন। তাই তাকে মওলানা বলা হয়।
রাজনীতিতে পদযাত্রা :
১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তাঁর ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন।এ সময় খেলাফত আন্দোলন এবং অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দশ মাস কারাদণ্ড ভোগও করেন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্বরাজ্য পার্টি গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন।
১৯২৬ সালে আসামে প্রথম কৃসক-প্রজা আন্দেলনের সুত্রপাত ঘটান।১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন। এখান থেকে তার নাম রাখা হয় "ভাসানীর মাওলানা"। এরপর থেকে তার নামের শেষে "ভাসানী" শব্দ যুক্ত হয়।
আসামে কৃষক বিপ্লব দিয়ে যার শুরু:
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে ময়মনসিংহ থেকে মুসলমান কৃষকেরা দলে দলে আসামে প্রবেশ করে। ধারণা করা যেতে পারে সরকার ও জমিদারদের অত্যাচারে তারা আসামে যেতে বাধ্য হয়। আসামের দুর্গম এলাকাগুলোতে এসব মানুষকে জমি দিয়ে আবাদ করানো হয়।
জানা যায়, এসময়ে অসংখ্য মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। অনেকে যায় হিংস্র প্রাণী বাঘ-ভাল্লুকের পেটে। এইসব বহিরাগতেদের অকান্ত প্ররিশ্রমে আসাম শস্যভান্ডারে সমৃদ্ধ হয়ে উঠে। এই প্রক্রিয়ায় এই এলাকায় বাড়তে থাকে বাঙালি কৃষকের সংখ্যা। বর্ণহিন্দু ও বুদ্ধিজীবীরা এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
অত:পর ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার বহিরাগতদের একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ করার জন্য ‘লাইন প্রথার’ প্রবর্তন করে এবং বাঙালি কৃষকদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকে। মাওলানা ভাসানী নির্যাতিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ান এবং বাংলা থেকে বহিস্কৃত হন। তিনি আসামে আশ্রয় নেন।
১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন। এখান থেকে তার নাম রাখা হয় "ভাসানীর মাওলানা"। এরপর থেকে তার নামের শেষে "ভাসানী" শব্দ যুক্ত হয়।
১৯২৯ সালে থেকে আসামের ধুবড়ির ঘাঘমারীতে খড়ের ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।
এছাড়া ১৯৩১ সালেসন্তোষের কাগমারীতে,১৯৩২ সালেসিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায়বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন।
প্রথমে ভাসানী কংগ্রেসের সাথে সম্পৃত্ত ছিলেন। একসময় তার উপলব্ধি হয়, কংগ্রেসের রাজনীতি কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য যথার্থ নয়।
তাই ১৯৩৭ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লিগে যোগ দেন। কিছুদিনপর তিনি আসাম প্রদেশ সভাপতি ও নিখিল ভারত নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানী :
১৯৩৭ সালেমাওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লগেযোগদান করেন। সেই সময়ে আসামে "লাইন প্রথা"' চালু হলে এই নিপীড়নমূলক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন। এসময় তিনি "আসাম চাষী মজুর সমিতি" গঠন করেন এবং ধুবরী, গোয়ালপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
১৯৪০সালে শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হকেরসঙ্গে মুসলিম লীগের লাহোরসম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে মাওলানা ভাসানী আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙালিদের বিরুদ্ধে "বাঙ্গাল খেদাও" আন্দোলন শুরু হলে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়। এসময় বাঙালিদের রক্ষার জন্য ভাসানী বারপেটা, গৌহাটিসহ আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান। পাকিস্তানআন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৪৭সালে আসামে গ্রেফতারহন।১৯৪৮-এ মুক্তি পান। এরপর তিনি টাঙ্গাইলেরসন্তোষে ফিরে আসেন।
১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভারসদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চব্যবস্থাপক সভার কার্যাবলি বাংলায়
পরিচালনা করার জন্য স্পিকারের কাছে দাবি জানান এবং এই দাবি নিয়ে পীড়াপীড়ি করেন। ১৯ মার্চবাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়ে বলেন, যেসব কর কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ প্রদেশথেকে সংগ্রহ করে তার শতকরা ৭৫% প্রদেশকে দিতে হবে।
১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
তাঁর অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাঁকে "লাল মওলানা" নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের 'ওয়ালাকুমুসসালাম' বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশে ভাসানী :
১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল মওলানা ভাসানী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাছে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দু'বার কোহিনুর প্যালেসে এসে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং তার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বদলীয় চরিত্র দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আট সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় যার সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী। ওই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেনথ ১) তাজউদ্দীন আহমদ, ২) মণি সিং, ৩) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, ৪) মনোঞ্জন ধর প্রমুখ। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ওই উপদেষ্টা কমিটির সভায় এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বাধীনতা ব্যতিরেক অন্য কোন প্রকার রাজনৈতিক সমাধান গ্রহণযোগ্য হবে না।”
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে মাওলানা ভাসানীর অবস্থান সম্পর্কে রাশেদ খান মেনন বলেন,‘ মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ভাসানীকে খুজে পাইনি। জানি তিনি আমাদের কাছেই আছেন। পত্রিকায় তার বিবৃতি পড়েছি। আকাশ বানীতে স্বাক্ষাতকার শুনেছি। আকাশবাণীতে সাক্ষাৎকারও শুনেছি। কিন্তু মাওলানা ভাসানী যা আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি সুভাষ বসুর মত বন্ধী ভারত সরকারের হাতে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশ্নে তিনি অবিচল ছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার তাকে বিশ্বাস করত না তার স্বাধীনচেতা দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী চরিত্রের কারণে। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারী অন্তরীণাবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে টাঙ্গাইলে আসেন’
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর হতে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে পরতে নিজ দলের ভাঙ্গনের মুখে । এ সময় নানা ধরনের রাজনৈতিক মতবিরোধ চাঙ্গা দিয়ে উঠে। উত্থান হয় মেজর জলিলের নেতৃত্বে জাসদ। সিরাজ সিকদর, কর্নেল তাহের সহ আরো অনেককে নেতৃত্বে দেখা যায়। মাওলানা ভাসানীকে এই সময়ের রাজনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। কিন্তু ১৯৭৪ সালে মানব সৃষ্ট মহা দুর্ভিক্ষের ছিলেন শেখ মুজিবের মহা সমালোচক।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন। যতদুর জানা যায় এই খবর তিনি শুনেন রোডিওতো। তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে যখন বেরিয়ে আসেন, তখন তিনি অশ্রুসিক্ত। বললেন,‘ কত বললাম, কিছুতেই শুনল না! কে যে যুক্তি দিল বাকশাল করার, প্রেসিডেন্ট হওয়ার! বহুদিন আমার সাথে ছিল, আমার সেক্রেটারী ছিল। এমন কর্মী, এমন সংগঠক আর পাইনি।”
বাংলাদেশে ইতিহাসের সব চেয়ে অন্ধকার আর কুয়াশাচ্ছন্ন সময় বলা যায় শেখ মুজিবের মৃত্যু পর হতে জিয়াউর রহমানের উত্থানের সময়টুকু। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের সাথে সাথে মাওলানা ভাসানী তাকে রাজনৈতিক সমর্থন দেন আর স্পষ্ট ধারণা করা যায় যে, তার এই সমর্থনের কারনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা হিসাবে অর্বিভূত হতে পেরেছিলন।
ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ :
১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দ্রিরা চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা বাঁধ চালু হয়। মাওলানা প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধাচরন করেন। মাওলানা তখন প্রায় জীবনের শেষ দিকে। জীবনে নানা সময়ে তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে নানাবিধ অসুখ বিসুখের কারনে।
১৫ মে ১৯৭৬, রাজশাহীর ঐতিহাসিক বক্তব্য শেষ করে মাওলানা ভাসানী খোলা জিপে করে গণমিছিলের নেতৃত্ব প্রদান করেন। চাপাইনবাবগঞ্জ হতে ৩২ মাইল পথ লাখ লাখ মানুষ হেঁটে চলেছে মাওলানার নেতৃত্বে হেটে চলছে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমূখে। বৃদ্ধ-নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ এসেছে পানি, মুড়ি, চিড়া, কাঁচা আম নিয়ে মিছিলকারীদের সহানুখভূতি জানাতে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত ১৫ মাইল পথ। কানসাট উপজেলায় মাওলানা ভাসানী আসরের নামাজ আদায় করলেন ঐতিহাসিক সোনা মসজিদে। নামাজের পর তিনি কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘোষণা করলেন। দেশবাসীর মধ্যে গড়ে উঠতে শুরু করল জাতীয়তাবাদী শক্তির মহান ঐক্য।
জীবন সায়াহ্নে ভাসানী :
এনপিপি এর চেয়ারম্যান শেখ শওকত নিলু তার ‘ভাসানীর বড় প্রয়োজন’ প্রবন্ধে লিখেন,১৯৭৬ সালের নভেম্বরে রাজশাহী মাদরাসা ময়দানেই সম্ভবত তার শেষ জনসভার ভাষণ। এরপর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘরোয়া বৈঠক ছাড়া বক্তব্য দেননি।
১৫ মে ভাসানীর বক্তৃতাকে জাতির উদ্দেশ্যে তার দিকনির্দেশনামুলক ভাষন হিসাবে দেশবাসী গন্য করেছে। বক্তব্য প্রদানের জন্য উঠে দাঁড়ালেন। লাখো মানুষের কোলাহলমুখর মাদরাসা ময়দানে পিনপতন নিস্তব্ধতা নেমে এলো। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা দিয়ে শুরু করলেন। স্মৃতিচারন করলেন খেলাফত আন্দোলন মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলীর সাথে তার সম্পর্কের। স্মৃতিচানর করলেন গান্ধী, নেহেরু , কায়েদে আজম, শ্রদ্ধা জানালেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি।
অশীতিপর বৃদ্ধ জননেতা যখন বক্তৃতা করছিলেন, মনে হচ্ছিল, রাজশাহীর মাটি যেন থরথর করে কাঁপছে, মাঠের আশেপাশে তিল ধারনের ঠাঁই নেই, জনতার মধ্যে থেকে হাজার হাজার কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল- লও লও লও সালাম। ভাসানীর কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল- সিকিম নয়, ভুটান নয়, এ দেশ মোদের বাংলাদেশ।
এর পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘরোয়া মিটিং ছাড়া বক্তব্য দেননি। ১৯৭৬ সালে ১৭ নভেম্বর এই মহান মজলুম নেতার বিপ্লবের শেষ অধ্যায় রচিত হয়।





