২০জুন বিশ্ব শরনার্থী দিবস। শরণার্থী রয়েছে এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কয়েকটি এলাকা শরণার্থীদের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বসবাসকারী মিয়ানমার নাগরিকদের সঠিক সংখ্যার খোঁজে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শুমারি করছে বাংলাদেশ সরকার। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে অবস্থিত দুটি ক্যাম্পে প্রায় ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে। এর বাইরেও প্রায় তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছেন।
১৯৯১-১৯৯২ সালে মিয়ানমার হতে আসা প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ মিয়ানমারে ফিরে গেলে বাংলাদেশে এখনও রয়ে যায় প্রায় ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা।
টেকনাফের লেদা, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় অনিবন্ধিত ক্যাম্প তৈরী করে বসবাস করছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এ ছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম,বান্দরবান,রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে প্রায় দুইলক্ষাধিক রোহিঙ্গা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মিয়ানমার নাগরিক এসব রোহিঙ্গারা পরিচয়হীন ভাবে বসবাস করায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অধিবাসীরা।
বাংলাদেশে কৌশলে ভোটার হওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট তৈরী করে বিদেশে বাংলাদেশী পরিচয়ে দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের মূলে রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্টি।
বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে উখিয়া ও টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলায় দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সহ নানা সামাজিক অস্থিরতা। রোহিঙ্গারা মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরী।
বর্তমান সরকার কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আবারও শুরু করবে এমনটা মনে করেন দীর্ঘদিনের শরণার্থী সমস্যা নিয়ে জর্জরিত বাংলাদেশের এই অঞ্চলের মানুষ ।





