আজ শনিবার বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বাংলাদেশে দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এবার নবমবারের মতো পালিত হচ্ছে দিবসটি। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২ এপ্রিল দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- অটিজম লক্ষ্য ২০৩০ : স্নায়ু বিকাশের ভিন্নতার একীভূত সমাধান।

সাধারণত অটিস্টিক শিশু বা ব্যক্তির কথা-বার্তা বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈকল্য ও অসঙ্গতি দেখা যায়। দেরিতে কথা বলা, জবান বা বোল বা বাক্ প্রভৃতিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। খেলাধুলায় অনীহা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা থাকে।

আচরণিক ক্ষেত্রেও এদের মধ্যে অঙ্গের যেমন, হাত, আঙুল, মাথা প্রভৃতির অস্বাভাবিকত্ব দেখা যায়। মূলত অটিজম একটি জটিল বিকাশজনিত বৈকল্য। এর ফলে ব্যক্তির সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, আবেগীয় পেশী বা সেন্সরি সঞ্চালনে সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।

বর্তমান বিশ্বে প্রতি ৮৮ জনে একজন অটিস্টিক। ১৯৯০ সালে এদের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রতি দশ হাজারে একজন ছিল। ২০০৯ সালে ১৫০ জনে একজন এবং এরপর প্রতি এক’শ জনে একজন অটিস্টিক ছিল।

আসলে এদের উপস্থিতি জাতি-ধর্ম-বর্ণ মিলে সব দেশে লক্ষ করা যায়। বলা হচ্ছে অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর বিশাল সামর্থ্য আছে। স্বাভাবিক চাকরির সুযোগ করে দিলে তারাও সমাজে সমান অবদান রাখতে পারে। অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও মানুষের সম্পৃক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অটিস্টিক শিশুরা আমাদেরই প্রিয় সন্তান। ভালোবাসা, যত্ন ও সেবা দিয়ে তাদের লালন-পালনের পাশাপাশি কর্মদক্ষ করে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। কারণ উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণই অটিস্টিক শিশুকে কর্মদক্ষ করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে পরিবারের স্নেহ, ভালোবাসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিস্টিক শিশু-কিশোর, তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন, জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং অটিজম রিসোর্স সেন্টার করেছি। আমরা অটিস্টিক ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আইন ও বিধি প্রণয়ন করেছি।

দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সকাল সাড়ে ১০ টায় নীল বাতি জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্তদের অংশ গ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রধান অতিথি থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

এমবি