দাসপ্রথা এখন আর নেই। কিন্তু বিলুপ্ত এই প্রথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়ে গেছে প্রচ্ছন্নভাবে, ভিন্ন নামে। অত্যাধুনিক যুগের এই দাসদেরকে দাসযুগের দাসদের মতো দেখা না গেলেও তাদের জীবনমান বিবেচনা করে দাসের কাতারেই অন্তর্ভূক্ত করা যায়। আর বিশ্বে এই আধুনিক দাসের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৫৮ লাখ। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

আধুনিক দাসত্ব নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংগঠন 'ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন'। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেছে তাদের দ্বিতীয় বার্ষিক গ্লোবাল স্ল্যাভারি ইনডেক্স (জিএসআই)। সংগঠনটি জানিয়েছে, দাসের সংখ্যা যা ভাবা হতো, বাস্তবে তার চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফরেস্ট জানান, প্রধানত যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশগুলোতে দাসের সংখ্যা বেশি।

ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের দাসের সংজ্ঞায় রয়েছে- ঋণের দায়ে সর্বস্বান্ত মানুষ, জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া মেয়ে শিশু ও নারী, পতিতাবৃত্তি, মানবপাচার, শিশু বিক্রি, বাধ্যতামূলক শ্রম (যেমন-তুলা ও মাদক চাষ) ইত্যাদি।

বিশ্বের ১৬৭টি দেশে এক জরিপের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জানা গেছে, ৫৮টি দেশে অন্তত ১২২ ধরনের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এসব দাস। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এক হিসেবে জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক শ্রম থেকে প্রতিবছর আয় হয় তার পরিমাণ প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দাসের বাস পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ায়। দেশটিতে বার্বার আরব জাতির লোকেরা কৃষ্ণাঙ্গ মুর সম্প্রদায়ের লোকজনকে দাসবৃত্তিতে নিয়োজিত রেখেছে। যদিও দেশটিতে দাসবৃত্তি আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ রয়েছে; কিন্তু এই আইনের বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে।

এরপরই রয়েছে উজবেকিস্তানের অবস্থান। দেশটিতে প্রতি বছর বসন্তকালে তুলা চাষের জন্য অন্তত ১০ লাখ মানুষকে বাধ্য করে সরকার। এদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

তবে, সবচেয়ে বেশি দাস রয়েছে ভারতে। দেশটিতে দাসের সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি। তবে, দেশটি খুব দ্রুত দাসবৃত্তির অবসান করতে পারছে।

এমএ