দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী অগ্রযাত্রার এক অভাবনীয় চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর সেটা হলো প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের হার। যেখানে ১৯৯১ সালে প্রাথমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ৪৫ শতাংশ, সেখানে ২০১৩ সালের জরিপে মেয়েদের অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে অর্ধেকেরও বেশি ৫২ শতাংশ।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকে এখন ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৯ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে।এর মধ্যে ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৪ জন ছাত্রী আর ছাত্র ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ জন পড়াশুনা করছে।

প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হারেও ছাত্রীরা এগিয়ে আছে।এতে গড় ভর্তি হার মেয়েদের ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ আর ছেলেদের ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ।ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ঝরেপড়ার হার কম।শুধু প্রাথমিকেই নয়, মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রী ও ছাত্রের অনুপাত ৫৩:৪৭ ভাগ।

প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের হার: যেখানে ১৯৯১ সালে প্রাথমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ৪৫ শতাংশ, ২০০০ সালে ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ।  সেখানে ২০১৩ সালের জরিপে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে অর্ধেকেরও বেশি ৫২ শতাংশ।

বিশ্ব লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিবেদন ২০১৪ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১শ মেয়ে শিশুর মধ্যে ৯৩ জন এবং প্রতি ১শ ছেলে শিশুর মধ্যে ৯০ জন প্রাথমিকে ভর্তি হয়। এছাড়া মাধ্যমিকেও প্রতি ১শ ছাত্রের মধ্যে ৪৪ জন এবং প্রতি ১শ ছাত্রীর মধ্যে ৫১ জন ভর্তি হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে শিক্ষার হার ৬১ শতাংশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী ৯৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার কমে ২০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে এবং শিক্ষাচক্র সমাপনের হার ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

জেনেভা ভিত্তিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাধ্যমিক শিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এই অঞ্চলের প্রথম ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে; বিশেষ করে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়ে শিশুর হার ৯৪.৭ শতাংশ। ছেলেদের হার ৮৭.৮ শতাংশ। ছেলের চেয়ে মেয়ে ভর্তির হার ৭ শতাংশ বেশি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত জেনেভাভিত্তিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিবেদন-২০১৪’ এ বলা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের (এনরোলমেন্ট) সূচকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকে এখন ৯৮ লাখ ৪ হাজার ২০ ছাত্রী পড়াশোনা করছে। আর ছাত্র পড়ছে ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৩ জন।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর মিনা দিবস: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি, ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৯ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

মানসম্মত শিক্ষা পেলে শিশু বিবাহ, শিশুশ্রম ও পরিবারে অসম বন্টন রোধ হবে এটিও এই দিবসটি পালনের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।

১৯৯১ সাল থেকে ইউনিসেফের উদ্যোগে মীনা দিবস পালন শুরু হলেও ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা-সংগঠন সার্কের উদ্যোগে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জনপ্রিয় কার্টুন “মীনা” নামের বালিকা চরিত্রটি মেয়ে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্ছার ছিলো।  ১৯৯১ সালে একজন ১০ বছর বয়সী বালিকা হিসেবে মীনা চরিত্রের সৃষ্টি।

সমাজের কুসংস্কার, বিভেদ ও বৈষম্য দূর করে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের বার্তাসমূহ বিনোদনমূলক কার্টুন চরিত্র মীনার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

মীনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়ে শিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

নব্বই দশকে সরকারি টিভি চ্যানেল বিটিভিতে ‘মীনা’ নামে একটি সচেতনতামূলক কার্টুন প্রচারের মাধ্যমে কন্যা শিশুর প্রতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক সহযোগিতা থাকলে কন্যা শিশুরাও যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে তা তুলে ধরা হয়। সে সময়ে এই কার্টুনটি সব মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

মীনা দিবস বিষয়ক কার্যক্রম প্রচারের ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ন তথা শিক্ষামূলক বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এমবি