মরুকরন মানে অস্বাভাবিক জলবায়ু ও মানবজাতির অপতত্পরতাসহ বিভিন্ন কারণে খরা, আধা খরা ও শুষ্ক অর্ধ আর্দ্র অঞ্চলের ভূমির অবক্ষয়। অর্ধ শতাব্দি ধরে মানবজাতির অতিরিক্ত চাষাবাদ ও গবাদি পশু চারন এমনকি বন নিধনের কারণে বিপুল পরিমানে গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে এবং গুরুতরভাবে পানি ও মাটির ক্ষয় হয়েছে।

জাতিসংঘের গবেষণা বলছে, দিন দিন যে মানুষের খাবার গ্রহণের জন্য সুপেয় পানি কমে আসছে এবং এ পানি সংকটই নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ হবে।

images_1

আজকের দুনিয়ায় পরিবেশের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে মরুকরণ অন্যতম। জাতিসংঘ বলছে, পৃথিবীর প্রায় দেড়শ' কোটি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ক্ষয়িষ্ণু ভূমির ওপর নির্ভরশীল। আর পৃথিবীর অতিদরিদ্রদের ৪২ ভাগই বাস করে ক্ষয়ে যাওয়া এলাকায়, যারা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করছে। এই ভূমিক্ষয় জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে, যা শুধু আমাদের বেঁচে থাকার জন্যই বিপদের কারণ।

১৭ জুন বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস। মরুকরণ প্রতিরোধ ও খরার প্রভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর এ ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি (United Nations General Assembly) ১৭ জুনকে বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।তার পর থেকেই ১৯৯৫ সালের ১৭ ই জুন থেকে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

এই সভায় ‘মরুকরণ ও খরা’ কে একটা বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সভায় সকলে একটা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, ‘মরুকরণ ও খরা’ প্রতিরোধের জন্য বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটা টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

ভূমির ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে এ বছরের স্লোগান 'ল্যান্ড বিলংস টু দ্য ফিউচার লেট'স ক্লাইমেট প্রুফ ইট'।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক প্রোগ্রামের তথ্যমতে, এ মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের জীবন-জীবিকা খরা ও মরুকরণের ফলে চূড়ান্ত হুমকির মুখে। পৃথিবীর প্রায় ৩০ শতাংশ ভূমি এখনই শুষ্কতার আওতায় চলে গেছে। এই সমস্যা দিনে দিনে ভয়বহ রূপ নিচ্ছে।

মরুকরণ ও খরা যেমনিভাবে বিশ্বব্যাপী মাথাব্যথার কারণ, তেমনি আমাদেরও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দিন দিন আমাদের ফসলি জমি কমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে কমছে গাছপালা, বন-জঙ্গল। তার চেয়ে বড় বিষয়, আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য জলাধারের অবস্থাও সঙ্গিন। দিন দিন যেমন আমাদের ফসলি জমি কমছে, একই সঙ্গে খরায় উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি দেশের একটি বাংলাদেশ। এ অবস্থায় পরিবেশের প্রতি আমাদের মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনে ভূমি এবং মাটির প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধির কথা যেমন বলছে, তেমনি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ারও তাগিদ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিধানে ভূমি এবং মাটির ওপরও গুরুত্ব আরোপের বিষয়টি এনেছে।

এখন একই সঙ্গে আমাদের কয়েকটি বিষয়ে কাজ করতে হবে। একদিকে যেমন আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে; বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা; একই সঙ্গে তাদের বসতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে বাড়ছে জমির চাহিদাও।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি বা শুষ্কতা এবং অধিক বন্যার মত মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাতে কৃষক তার আবাদী জমি থেকে ফসল ফলাতে পারবে না, মাঠে ময়দানে সবুজের পরিমাণ কমে যাবে এবং জীবজন্তু, গাছপালা, মানুষ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পৃথিবীর মরুকরণ দুটি কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রাকৃতিক কারণ ও মানুষ জনিত কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধিকারক গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি যেমন বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ।

2016_04_22_08_29_07_eSAyRcpqKuoLxyRujZbUdEP4ZW3d8x_original

তাই খরা ও মরুকরনের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে প্রচুর পরিমানে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।এবং পৃথিবীতে সবুজের সমারাহ গড়ে তুলতে হবে।পাশাপাশি জনসংখার ঘনত্ব কমাতে হবে।

এআই