ঢাকা: নির্বাচন স্থগিতের পরামর্শ দেয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই পরামর্শ দেয়া ‘বিশিষ্টজনরা’ অসাংবিধানিক পন্থা চাইছেন কি না- সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন,“নির্বাচন একটা পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন নির্বাচন বন্ধ করতে বলে। তাহলে তো অসাংবিধানিক পন্থায় যেতে হবে। বিশিষ্টজনরা সেই পন্থা চান কিনা?”
রোববার গণভবনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে জেএসসি-জেডিসির ফল জানার পর শেখ হাসিনা বলেন, “কিছু বিশিষ্টজন হঠাৎ করেই বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।… এদের মধ্যে অনেককে আগেও দেখা গিয়েছিল। ২০০৮ এর জরুরি অবস্থার সময়,এক এগারোর সময়ও এরা সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন।”
শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একটি অংশ সঙ্কট এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিতের পরামর্শ দেন।
তারা সবাই একবাক্যে মত দেন, বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে এ নির্বাচনে সরকারের এগিয়ে যাওয়ায় কোনো সমাধান আসবে না।
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সঙ্কটে বাংলাদেশ, নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই বৈঠকে চার ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন ৫৪ জন। এর আয়োজনে ছিল চার সংগঠন সিপিডি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুজন ও টিআইবি।
এর মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এস এম শাহজাহান, মইনুল হোসেন, হোসেন জিল্লুর রহমান, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, রোকেয়া আফজাল রহমান, ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক, পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।
নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধিদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “উনাদের এই চেতনা এতো দেরিতে কেন এলো। যখন হরতাল অবরোধে পরীক্ষা বন্ধ করে দিল,বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারল, বোমা হামলা করল, তখন উনাদের এই চেতনা কোথায় ছিল?”
অসাংবিধানিক পন্থা থাকলেই ‘বিশিষ্টজনদের কদর বাড়ে’ বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। “তাদের অবশিষ্ট কাজটুকু হয়ে যায়, গাড়িতে পতাকা লাগাতে পারে।
“হেফাজত যখন তাণ্ডব করল, আমার আহ্বানের পরও বিরোধী দরীয় নেতা সংলাপে সাড়া দিলেন না, তখন কেন বিশিষ্টজনেদের চেতনা জাগ্রত হলো না? ‘অন্য কিছু হলে’ এই বিশিষ্টজনদের ডাক পড়তে পারে- এই আশাতেই তারা বসে থাকেন বলেও শেখ হাসিনার মন্তব্য।
পঞ্চদশ সংশোধনীর পর সংবিধানের বর্তমান ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের পক্ষে আওয়ামী লীগ অবস্থান নিলে তার বিরোধিতা করে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপি।





