অনেক রক্তের পথ পেরিয়ে অবশেষে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরাইল। দীর্ঘ ৫০ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে হামাসও গড়ে তুলে প্রতিরোধ। এই অসম যুদ্ধে বিজয় হয়েছে মূলত হামাস ও গাজার।

মিশর সরকারের মধ্যস্ততায় কায়রোতে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনার পর উভয়পক্ষ মঙ্গলবার একটি চুক্তিতে সম্মত হয়।

এতোদিন গাজায় বিমানবন্দর নির্মাণ ও সমদ্রবন্দর স্থাপনের মত যেসব দাবিকে ইসরাইল অগ্রাহ্য করে আসছিল চুক্তিতে তাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দু'পক্ষের কাছে দৃশ্যত মেনে নেয়া কঠিন বিষয়ও এতে স্থান পেয়েছে।

আশু বা দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে এবং দীর্ঘমেয়াদী এই দুই ভাগে ভাগ করে চুক্তির বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।

আশু পদক্ষেপ

১. হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র যোদ্ধারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে রকেট ও মর্টার হামলা বন্ধ করবে।

২. ইসরাইল বিমান ও স্থল অভিযানসহ সব ধরণের সামরিক হামলা বন্ধ করবে।

৩. গাজায় মানবিক সহায়তা ও নির্মাণ সামগ্রীসহ পণ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে ইসরাইল আরো সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেবে।

৪. মিশরের সাথে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে গাজার সাথে রাফা সীমান্ত খুল দেয়া হবে।

৫. ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হামাসের কাছ থেকে গাজা সীমান্ত এলাকার প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ইসরাইল ও মিশর আশা করছে যে গাজায় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ প্রতিহত করা হবে।

৬. ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থ সহায়ায় গাজা পুনগর্ঠনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

৭. ইসরাইল বাফার জোনকে আরো সংকুচিত করবে। বর্তমানে ৩০০ মিটার থেকে কমিয়ে এটাকে ১০০ মিটারে নিয়ে আসা হবে। এতে গাজাবাসী সীমান্তে আরো বেশি জায়গায় কৃষি কাজ করার সুযোগ পাবেন।

৮. গাজা উপকূলে মাছ ধরার এলাকা বর্তমানের ৩ মাইল থেকে বাড়িয়ে ৬ মাইল করা হবে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলে এটা ধীরে ধীরে আরো বাড়ানো হবে। চূড়ান্তভাবে ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১২ মাইল পর্যন্ত এলাকায় মাছ ধরার অনুমতি পাবে।

দীর্ঘমেয়াদী ইস্যু নিয়ে আলোচনা

১. হামাস চায় ইসরাইলে কারাগারে বন্দি শত শত ফিলিস্তিনির মুক্তি।

২. প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও চান বন্দি ফিলিস্তনিদের মুক্তি।

৩. ইসরাইল চায় হামাস ও অন্যান্য যোদ্ধাদের হাতে যুদ্ধে নিহত ইসরাইলি সেনাদের দেহাবশেষ ফেরত।

৪. হামাস যায় আমদানি রপ্তানি সুবিধাসহ গাজায় একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করতে। ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার গ্যারান্টি পেলে এটা নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

৫. হামাস চায় আটক তহবিলের অবমুক্ত করা যাতে তাদের ৪০ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার বেতন দেয়া যায়। গত বছর থেকে সরকারি স্টাফদের বেতন দিতে পারছে না হামাস।

৬. ফিলিস্তিনিরা চায় গাজায় নির্মিত ইয়াসির আরাফত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করতে। ১৯৯৮ সালে এটি চালু হলেও ২০০০ সালে ইসরাইলি বোমা নিক্ষেপের পর থেকে এটি বন্ধ আছে। এটি আবার পুননির্র্মাণ করতে হবে। সূত্র: রয়টার্স

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ