স্বাভাবিক সকল শিশুর মতো জন্মগ্রহণ করেছিলেন সানায়োরা। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ১ নং শুহিলপুর ইউনিয়নের পিপুইয়া গ্রামে বাবা মায়ের আদর যত্নে বড় হতে থাকেন।
সানোয়ারা বাবা মায়ের ২ ছেলে ৪ মেয়ের মধ্যে ৫ম। বাবা আব্দুস সোবহান বেবী ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন। মা গৃহিনী। ৮ সদস্য বিশিষ্ট সংসার আব্দুস সোবহানের। একজনের আয়ের টাকা দিয়ে সংসার চালানো ছিলে খুবই কষ্টকর। তার মাঝে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ তো রয়েছেই।
যখন সানোয়ারার বয়স ১ বছর, অন্য সকল শিশুদের ন্যায় হাঁটতে চেষ্টা করে। যখন হাঁটতে শুরু করে তখন সানোয়ারা জ্বরে আক্রান্ত হয়। এই জ্বরই সানোয়ারার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। এরপর থেকে সানোয়ারা আর দুইপা নিয়ে দাঁড়াতে পারেনা। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখালেন বাবা মা। কিন্তু কোন কিছুতেই আর কাজ হলো না।
টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করা গেলো না। অবশেষে সানোয়ারাকে এই পঙ্গুজীবনই বরণ করে নিতে হয়। দুটি পা ছাড়া বর্তমানে সে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করে থাকে। পড়ালেখার প্রতি তার ছোটবেলা থেকেই রয়েছে খুব ঝোঁক। সে জীবনে প্রতিষ্ঠিত একজন শিক্ষাবিদ হবে এটাই তার লক্ষ্য। পঙ্গুত্ব দমিয়ে রাখতে পারেনি তার পড়ালেখাকে। সে তার বন্ধুদের সাথে স্কুলে ছুটে যেতে আরম্ভ করে। এইভাবে সে নিয়মিত স্কুলে যেতে শুরু করে। এভাবেই শত কষ্টের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের সহযোগীতা ও উৎসাহে চলতে থাকে শিক্ষাজীবন।
কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছেনা সানোয়ারার। হঠাৎ করে তার বাবা ২০০২ সালে মারা যান। এরপর তাদের পরিবারের উপর নেমে আসে ঘনঘটা বিপদ। মায়ের উপর পড়ে পরিবারের সকল দায়িত্ব। ভাইয়েরা বিবাহ শাদী করে পৃথক হয়ে যায়। আর বোনেরা বিবাহের পর স্বামীর সংসারে চলে যায়। এখন মা আর সানোয়ারাকে দুই ভাই ভাগাভাগি করে খাওয়ান। সানোয়ারা এখন বড় হয়েছে। তাই তাদের ভরনপোষনের চাহিদাও বেড়েছে।
২০১২ সালে সে পিপুইয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি. পাশ করে। এবার শুরু হলো তার কলেজ জীবন। গ্রাম থেকে ৪ কি.মি দূরে ইলিয়টগঞ্জে অবস্থিত ড: মোশারফ হোসেন ফাউন্ডেশন কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু যাতায়ত খরচ ও শারীরিক সমস্যার কারণে কলেজে যাওয়া তার জন্য কষ্টকর হয়।
বর্তমানে সে এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থী। অর্থাভাবে সে একটি হুইল চেয়ারও কিনতে পারেনি। যার দরুন তাকে হামাগুড়ি দিয়েই পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নামমাত্র সামান্য কিছু প্রতিবন্ধীভাতা পায়। সানোয়ারা টিউশনি ও সেলাইয়ের কাজ করে কিছু টাকা আয় করে নিজের খরচে সংসার চালাতে চেষ্টা করে। যার মাধ্যমে তার সাময়িক কিছু উপকার হলেও তার পরিবারের অভাব দূর হচ্ছে না।
আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান লোক আছে যারা সমাজের এইসব প্রতিবন্ধীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকেন। তারা যদি সানোয়ারার প্রতি সহানুভূতি এবং সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাহলে সে তার মেধা বিকাশ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
[b]ঢাকা, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
টাইম ফোকাস
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি সানোয়ারাকে
স্বাভাবিক সকল শিশুর মতো জন্মগ্রহণ করেছিলেন সানায়োরা। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ১ নং শুহিলপুর ইউনিয়নের পিপুইয়া গ্রামে বাবা মায়ের আদর যত্নে বড় হতে থাকেন। সানোয়ারা বাবা মায়ের ২ ছেলে ৪ মেয়ের মধ্যে ৫ম। বাবা আব্দুস সোবহান বেবী ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন। মা গৃহিনী। ৮ সদস্য বিশিষ্ট সংসার আব্দুস সোবহানের।





