এ বছর হঠাৎ করে বদলে গেছে পৃথিবীর আবহাওয়া। কোথাও প্রচণ্ড খরা আবার কোথাও বা প্রবল বৃষ্টি। আবহাওয়া পুরোপুরি প্রতিকূল অবস্থায় চলে গেছে।

খুব সম্প্রতি সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে বন্যায় প্রাণ গেছে ৩৩ জনের। যেখানে বৃষ্টি এক প্রকার হয় না বললেই চলে। সেখানে প্রবল বৃষ্টিতে প্রাণহানীর মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত-বাংলাদেশে চলছে প্রচণ্ড খরা।

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা। সূর্যের প্রখর তাপে ক্লান্ত নগরজীবন। গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানি সংকট।

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হচ্ছেননা অনেকেই। জীবনের প্রয়োজন মেটাতে গরম উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে নিম্ন আয়েরসহ সকল খেটে খাওয়া মানুষদের।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। প্রচণ্ড গরম পড়ায় রাজধানীতে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সংকটও। যেসব এলাকায় সংকট স্থায়ীভাবে চলে আসছিল সেখানে অবস্থা আরও খারাপ।

এছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে অসংখ্যবার লোডশেডিংয়ে, পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলায় দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না।

গরমে ছাত্র-ছাত্রী ও রোগীদের ভোগান্তি বেরেছে। লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস ও তরকারি নষ্ট হয়ে পড়ছে। গরমের কারণে বাড়ছে নানা ধরনের রোগবালাই।

জাহিদ হাসান (AIUB) একজন ছাত্র টাইমনিউজ বিডিকে জানান, প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছেনা। আমি ৫/৬দিন ধরে জ্বর ও ডাইরিয়ায় ভুগছি।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গরমের কারণে গত কয়েক দিনে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাস ও অফিস থেকে এসে ঠাণ্ডা-গরমে জ্বর, কাশি ও সর্দিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সী নারী-পুরুষ।

প্রচণ্ড গরমে সবচে বেশি কষ্ট— খেটে খাওয়া মানুষের। শ্রমের চাকা না ঘুরলে যে, বন্ধ হবে তাদের জীবনের চাকাও।

রিক্সা চালক বাছেদ টাইমনিউজ বিডিকে জানান, 'গরমে সহ্য করবের পাইনে তাউ বউ বাচ্চার জন্য রিক্সা চালান লাগে।'

অনেকেই রাস্তার পাশে তৈরি অস্বাস্থ্যকর শরবত, আইসক্রিম ইত্যাদি খাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মশিউর টাইমনিউজ বিডিকে জানান, ‍'গরমে ক্লান্ত হয়েগেছি তাই খাইতেছি। ভালো কিনা খারাপ জানিনা তাউ খাই। গরমে পানি বেরহয়ে যায় তাই খাই।'‌‌

চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানি ও বাসি খাবার গ্রহণের কারণে গরমে মানুষের বেশি ডায়রিয়া হচ্ছে। আর গরম বেড়ে যাওয়ায় তৃষ্ণার্ত পথিক ও শিশুরা রাস্তার পাশে তৈরি করা শরবত, আইসক্রিম ইত্যাদি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি খাবার খেয়েও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

গেলো ৩০ বছরের রেকর্ড বলছে, এপ্রিল মাসেই দেশের তাপমাত্র বেশি থাকে বাংলাদেশে। কয়েক সপ্তা ধরে রাজধানীর তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করছে। আর ঢাকার বাইরে তাপমাত্রা বেড়েছে ৪০ দশমিক ছয় ডিগ্রী পর্যন্ত। আর ক’দিন বৃষ্টি না হলে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমবি