প্রায় ২৩ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান শেষে ৬শ ফুট গভীর পরিত্যক্ত পানির পাইপের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু জিয়াদকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গতকাল (শুক্রবার) বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাতভর উদ্ধার অভিযানের লাইভ সম্প্রচার চলতে থাকে বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশনে।

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বার বার দাবি করা হয়, শিশুটি জীবিত আছে, তাকে জীবিত উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হচ্ছে।

এমনকী শুক্রবার রাত পর্যন্ত দাবি করা হয়, জিয়াদ পাইপের ভেতর থেকে কথা বলেছে, পাঠানো জুস খেয়েছে।

রাতে এক পর্যায়ে রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক মোমিনুল নামের এক যুবক পাইপের ভেতর নামার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু আরও দক্ষ লোক দরকার এমন যুক্তি দেখিয়ে ফায়ার সার্ভিস মোমিনুলকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়।

এসব ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পরে আজ (শনিবার) বেলা আড়াইটার দিকে, ফায়ার সার্ভিসের মহা-পরিচালক আলী আহমেদ খান বলেন, শিশুটির হদিস মিলছে না। তাই আপাতত উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হলো।

এমনকী পাইপের মধ্যে কোন ভিকটিম (শিশু) নেই এমন ঘোষণাও দেন আহমেদ খান। শুক্রবার রাত পর্যন্ত জিয়াদের কথা বলা ও জুস খাওয়ার খবরের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন করেন ফায়ার সার্ভিসের মহা-পরিচালক।

ঘটনাস্থলের পাশেই এই সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধার হলো শিশু জিয়াদ।

একটি সূত্রে জানা যায়, সরকারীভাবে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হলেও বেসরকারী উদ্যোগে উদ্ধার কাজ চলতে থাকে এবং এরই এক পর্যায়ে বেলা সোয়া তিনটার দিকে, ঢাকা পলিটেকনিক ইনিসটিটিউট এর ছাত্র ফারুক ও রহমত মিলে জিহাদকে উদ্ধার করে।

তবে, অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রাতভর এবং সারাদিন উদ্ধার কাজের লাইভ সম্প্রচার চলা সত্ত্বেও যেই মুহুর্তে জিয়াদকে উদ্ধার করা হলো তার কোন লাইভ সম্প্রচার হয়নি কেন। কিভাবে পাইপের ভেতর থেকে জিয়াদকে তোলা হলো তার একটি ভিডিও ফুটেজ অবশ্য পরে দেখানো হয়। অনেকেই এটাকে রহস্যময় উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন।

হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে ঘোষণা করা হয় জিয়াদকে পাওয়া গেছে এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে দাবি করা হয় স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি যন্ত্র পাইপের ভেতর পাঠানো হয়। সেই যন্ত্রটি পাইপের ভেতরে প্রবেশের সময় তার খাচায় সবকিছু ঢুকবে কিন্তু বের হবে না। এভাবে পাইপের গভীর থেকে যন্ত্রটি বের করার পরই তার ভেতরে জিয়াদকে পাওয়া যায়।

অথচ উন্নত ক্যামেরার বরাত দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিট আগে ফায়ার সার্ভিসের মহা-পরিচালক বললেন, পাইপে শিশুটির অস্তিত্ব নেই, উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হলো।

ফায়ার সার্ভিসের এই ব্যর্থতার জন্য তাদের শাস্তিও দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ। এমনকী ক্ষুব্ধ মানুষ সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও ভাংচুর চালায়।

এবারে টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য ফেসবুকে বিভিন্নজনের দেয়া কিছু মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

আশরাফ রহমান

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এনএসআই যুগ্ম পরিচালক আবু সাঈদ এবং ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) আলী আহমেদ খানকেচাকরিচ্যুত করে গাড়ি মেকানিক ফারুক, মুরাদ এবং আনোয়ারকে তাদের জায়গায় নিয়োগ দেয়া হোক। কারণ যেখানে সরকারি সব প্রযুক্তি ও জনবল ফেল মেরেছে, সেখানে এই তিন মেকানিক লোহার রড এবং জাল দিয়ে ক্যাচার তৈরি করে প্রায় ২৩৫ ফুট নিচ থেকে জিহাদকে উদ্ধার করেছে!!!!!!

সিরাজুল ইসলাম

না না না.....মেকানিক সাহেবরা তো ওপরের ২৩৫ ফুট থেকে তুলেছে....তাহলে শিশুটি কি হাওয়ার ওপর ভেসে ছিল????

শিবলী চৌধুরী কায়েস

জিয়াদের গর্তে পড়ার ঘটনা নাকি গুজব!! পুরো গুজব? বাবা-মায়ে'র হদিস কোথায়? তবে----আমাদের ইমোশন নিয়ে খেলার কোন মানে হয়? জুস খাওয়ানো হইছে.........আওয়াজ পাওয়া গেছে.......কি বুঝলেন????????নীচ থেকে কথা বললো কে...পানি আর বিস্কুট খাইলো কে??দড়ি ধরলো কে!?!!! সোনার বাংলাদেশ

আবদুর রহিম হিমেল

শিশু জিহাদ আর নেই। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গুজব ঘোষণার পর ফায়ার সার্ভিস এর ডিজিটাল অভিযান এর চরমভাবে ব্যর্থতা শেষে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করার পর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় স্থানীয়দেরউদ্যোগে রানা প্লাজার ১ জন স্বেচ্ছাসেবক এনালগ+ ডিজিটাল পদ্মটিতে শিশু জিহাদকে উদ্ধার করা হয়েছে।তাকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজহাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটি মৃত।সোনার বাংলা এখন ব্যথতার গ্লানি নিয়ে এগিয়ে চলছে ।

মোকাররম হোসাইন

বাংলাদেশের মিডিয়া হচ্ছে এক একটা শয়তানের বড় চ্যাঁলা, চামুণ্ডা ।কাল যখন কয়েকমিনিট (বেশীক্ষণ দেখার মত সময়, রুচি কোনটাই নাই ) লাইভ দেখছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, ৭৫ সালে সব মিডিয়া বন্ধ করে মুজিব খারাপ করেনি।

শিশুর কান্না শুনতে পাচ্ছে, সেটা লাইভ দেখাচ্ছে। সেই শিশু নাকি বলছে, "আমি দড়ি ঠিক মতো ধরতে পারছি না" , " আসছে অদ্ভুত কান্নার আওয়াজ"। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছেটিভি চ্যানেলের সাঙ্ঘাতিকগুলো দর্শকের কাছে ফেস বুকে আর এসএমএস এ "শিশু" উদ্ধারের " তরিকা" আহবান করছে। ফাজলামো আর কারে বলে।

এক লাফে পাইপ হয়ে যাচ্ছে ৩০০ ফুট, ৪০০ ফুট, ৬০০ ফুট। শিশুর নাম, জিহাদ, জাহিদ থেকে জিয়া হয়ে যাচ্ছে । "শিশুর" " বাবা"র লাইভ সাক্ষাতকার দেখে মনে হয়েছিল, নাটক কত প্রকার কি কি।

এতো নাটক নাটক আর করিয়েন না। একদিন এমন আসবে সেদিন কিন্তু কেউই কিছু বিশ্বাস করতে চাইবো না। খেয়াল রাইখেন ।

মাকসুদুন্নবী

পাইপে পানির উপরিভাগ পর্যন্ত ক্যামেরা পাঠানো হয়েছে, কিন্তু পাইপের তলদেশ পর্যন্ত ক্যামেরা পাঠানো হয়নি। ওই সংকীর্ণ পাইপে বাচ্চাটা তো পানিতে তলিয়েও থাকতে পারে....? তাছাড়া বলা হলো যে পাইপের গভীরতা ৬০০ ফুট। অথচ ২৪০ ফুট পর্যন্ত ক্যামেরা পাঠিয়েই কীভাবে এটা বলা যায় যে, কোনো মানব দেহের অস্তিত্ব নেই?

মুকিমুল আহসান হিমেল

একটু খেয়াল করবেন মাকসুদ ভাই। ওই পাইপের ভেতরে যে ২ ইঞ্চির সরু পাইপ ছিল সেটির গভীরতা ছিল ৬০০ ফিট। ২৪০ ফিটের পরে শুধুমাত্র দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি ব্যাসের একটি ছিদ্র ছিল। সে ছিদ্র দিয়ে শুধুমাত্র চিকন পাইপটি নিচে চলে গেছে। সেখানটাতেই পানি ছিল। কিন্তু দুই ইঞ্চি ব্যাসের কোন জায়গা দিয়ে তো তিন চার বছরের বাচ্চা নিচে পড়ে যেতে পারে না।

ফরহাদ হোসেন

জিয়াদ/জিহাদ/জিয়া, দৃশ্যপট-১: ৬'শ ফুট গভীর কূপ, সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা পড়ে গেল, মা বলে চিৎকার, উপরে থাকা কয়েকটি শিশু শুনল, বড়দের জানালো, শুরু হলো উদ্ধার কাজ

দৃশ্যপট-২: ফায়ার সার্ভিস এলো, জুস দিলো, পানি দিলো, অক্সিজেন দিলো, রশি ফেলা হলো, কয়েকবার রশি ধরে উঠার চেষ্টা করলো শিশুটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত উঠে এলো না। সে নীচ থেকে সাড়াও দিলো। (এখানে লক্ষ্য করার বিষয়-গভীর কুপ, ঘুটঘুটে অন্ধকার, রয়েছে পানি, তীব্র শীত, পড়ার সময় নিশ্চয় ব্যাথ্যাও লেগেছে, সর্বোপরি সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা, এই অবস্থায় রশি ধরে রাখা কতটুকু সম্ভব?)

দৃশ্যপট-৩: এবার কূপে থাকা দুই ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ (যেটা দিয়ে পানি উঠে আসতো মটরের সাহায্যে) তুলে ফেলার কাজ। ধারণা করা হচ্ছে এর সাথে সাথে শিশুটিও উঠে আসবে। তখন আমার মনে একটি কাল্পনিক ছবি ভাসছিল এরকম-শিশুটি পাইপ ধরে নীচের মটরের উপর বসে জুস খাচ্ছে, আর বলছে, একা একা খেতে চাও পাতালে এসে খাও। পাইপ তোলার কাজ শেষ হলেও শিশুটি এলো না।

দৃশ্যপট-৪: সবশেষ উচ্চ ক্ষমতার ক্যামেরা লাগিয়ে দেখা হলো, আদৌও সেখানে কোন মানুষের অস্তিত্ব নেই। তাহলে উপরের কথাগুলোর ভিত্তি কি?

কেবি