মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলার সবশেষ রায় ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় ৯ মাস আগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর।

পলাতক দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে মৃত্যদন্ডের আদেশ দিয়ে ওই রায় ঘোষণা করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায়ের অপেক্ষায় মাওলানা সাঈদীর মামলা এবং দুই ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমান রয়েছে ৫ মামলা। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬ মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান।

দুই ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমান রয়েছে যেই ৫ মামলা তার আসামীরা হলেন- জামায়াত নেতা মাওলানা নিজামী, মীর কাশেম আলী এবং বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো: কায়সার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও ২টি মামলা। এ দুটি মামলার আসামী দুই জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুস সোবহান।

দীর্ঘদিন রায় ঘোষণা না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা হতাশা ব্যক্ত করলেও শিগগিরই রায় ঘোষণার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তিনি বলেন,ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ। আশা করছি,শিগগিরই এসব মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন,রায় ঘোষণার বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ আছে,এটা ঠিক। তবে আমরা সুচিন্তিত রায় চাই। আর মাননীয় ট্রাইব্যুনালই বলতে পারবেন,কখন রায় ঘোষণার উপযুক্ত সময়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যু দন্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা শুনানি আপিল বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে এই মর্মে গত ১৬ এপ্রিল অপেক্ষমাণ (সিএভি) তালিকায় মামলাটি রাখা হয়।

জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা ৪ দফায় সিএভি রাখা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন নিজামীর অসুস্থতার কারণে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এছাড়া গত ৪ মে জামায়াতের নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলার রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এরপর গত ১৭ এপ্রিল ফরিদপুরের পলাতক বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

গত ২ জুন বাহ্মনবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোবারক হোসেনের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

সবশেষ ২০ আগষ্ট (হবিগঞ্জ) জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মাদ কায়সারের বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চললে চলতি মাসেই আরও অন্তত দুইটি মামলার রায়ের দিন ধার্য কিংবা অপেক্ষমাণ তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

এর মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন তৃতীয় দিনের মত শেষ হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে কার্যক্রম চললে আগামী সপ্তাহে শেষ হতে পারে উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন। এরপরই রায় ঘোষণার তালিকায় যুক্ত হবে এই মামলা।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। এরপরই শুরু হবে মামলার শেষ ধাপের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চললে এ মাসের শেষের দিকে কিংবা আগামী মাসের প্রথম দিকে শেষ হতে পারে এ মামলাগুলোর কার্যক্রম। এরপরই আইন অনুসারে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকা, কে এ, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি