ইতালির আসিজি শহরের সাধু ফ্রান্সিস।পশুপাখি বড্ড প্রিয় ছিল তাঁর।১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে ইকোলজিস্টদের এক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৪ অক্টোবর পালন করা হবে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে।কারণ ৪ অক্টোবর ছিল সাধু ফ্রান্সিসের ভোজ উৎসবের দিন। এ দিন বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকে ভালোবাসার দিন।

পৃথিবীতে আমাদের টিকে থাকার ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের পেছনে প্রাণীদের রয়েছে প্রত্যক্ষ অবদান।সেই অবদানকে মনে রাখা ও প্রাণীদের প্রতি সদয় হওয়াই হচ্ছে প্রাণী দিবসের উদ্দেশ্য।

জীববৈচিত্র্য মানে প্রাণের বৈচিত্র্য।জীববৈচিত্র্য বলতে সাধারণত উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংখ্যা, প্রজাতিভেদ এবং বৈসাদৃশ্যকে বুঝানো হয়ে থাকে।তবে ব্যাপক অর্থে পৃথিবীতে জীবনের উপস্থিতি অর্থাৎ Life on earth-ই জীববৈচিত্র্য।

এক প্রাণীগোষ্ঠী জীবনের তাগিদে অন্য কোন প্রাণীগোষ্ঠীর উপর নির্ভরশীল। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও ঔষধ এই প্রধান তিনটি প্রয়োজনীয় উপাদান জীববৈচিত্র্য থেকে প্রাপ্ত।

মানুষের জীবনে যত উপকরণ ও উপাদান প্রয়োজন, তা’সবই পৃথিবীর জীববৈচিত্রের মধ্যে নিহিত রয়েছে।কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনায়ন বিলোপ, অবিবেচনাপ্রসূত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আজ পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য হুমকীর সম্মুখীন।

বাংলাদেশে মোট ২১৯টি প্রজাতির বন্যপ্রাণী এখন বিপন্ন।এই তালিকায় রয়েছে মাছ, উভচর সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী।বনবিভাগের হিসেবে, মিঠা ও লোনা পানির ৭০৮টি প্রজাতির মাছের মধ্যে বিপন্ন হয়ে পড়েছে ৫৮টি প্রজাতি।

এ ছাড়া ৪২টি প্রজাতির উভচরের মধ্যে ৮টি, ১৫৭টি প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে ৬৩টি, ৭৩৬টি প্রজাতির পাখির মধ্যে ৪৭টি এবং ১২৪টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে ৪৩টির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন।

এমকে