বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গান বাংলার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ও মডেল সাবিরা হোসাইনের আত্মহত্যার পূর্বে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস ও ভিডিও ক্লিপিং নিয়ে চলছে তোলপাড়।

ওই ভিডিও ক্লিপিং দেখছেন এবং শেয়ার করছেন হাজার হাজার মানুষ। একই সঙ্গে সাবেরার ফেসবুকে কমেন্ট করছেন শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে সাবলেটের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কিছু পূর্বেই তিনি নিজ মোবাইলে সেলফি মুডে ৯ মিনিটের ওই ভিডিওটি ধারণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রূপনগর থানার ডিউটি অফিসার জোহরা আকতার জানান, সাবেরার আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, সহকর্মী প্রেমিক নির্ঝর সিনহা রওনকের সঙ্গে অভিমান করে সাবিরা আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে সাবিরা নিজের ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন।

এতে তিনি তার মৃত্যুর জন্য প্রেমিক নির্ঝরকে দায়ী করে গেছেন।

ভিডিওটিতে একটি ছুরি হাতে সাবিরাকে বারবার পেটে ও গলায় চাপ দিতে দেখা যায়। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বলেন, 'আমি ব্যর্থ, আপাতত। এবার পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।'

ফেসবুক স্ট্যাটাসে নির্ঝর সিনহা রওনক নামের সহকর্মী ও প্রেমিক আলোকচিত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাবিরা হোসাইন লিখেন, 'আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না। এটা তোমার ছোট ভাইকে বলছি। সে আমাকে যা ইচ্ছে বলেছে। আর বেস্ট পার্ট হলো- প্রত্যয় আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আর আমার প্রশ্ন হলো তোমার কী একটুও খারাপ লাগেনি?'

নির্ঝরকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেন, 'আমাকে যখন তখন ব্যবহার করবা, শারীরিক সম্পর্ক করবা আর এসব সহ্য করে যাব এটা তো কোনো কথা না! আমিও ভালোবাসার টানে চলে আসবো তাও না, বিয়ের কথা বললে তোমার পরিবারের সমস্যা থাকে আর শারীরিক সম্পর্কের বেলায় সব ঠিক! এটা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এখন আমি আত্মহত্যা করছি শুধু তোমার জন্য।'

এরপর প্রেমিক নির্ঝর সিনহা রওনককে মেনশন করে সাবিরা আরও লিখেন, 'আমার মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। যদি আমি মারা যাই, তাহলে এর দায় তোমার।'

উল্লেখ্য, সাবিরা হোসাইন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি গান বাংলা টেলিভিশনের মার্কেটিং এক্সিজিউটিভ ছিলেন। এখানে যোগদানের আগে মোহনা টেলিভিশনে কাজ করেছেন তিনি।

সাবিরা বেশ কিছু পণ্যের স্থিরচিত্রে মডেল হয়েছিলেন। মডেলিং ছাড়াও উপস্থাপনাতেও তাকে দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি গানবাংলা টিভিতে কাজ করতেন।

সমাজ সচেতন অনেকের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, বিজাতীয় অপসংস্কৃতির সয়লাব, ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যবহার না থাকার কারণে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা ও পরকীয়ার ঘটনা।মায়ের হাতে সন্তান খুনসহ অহরহ ঘটছে লোমহর্ষক সব ঘটনা।আর এরই ধারাবাহিকতায় সবশেষ দেখা গেল উদীয়মান মডেল সাবিরার আত্মহত্যা।

এসব ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নিবেন, পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের সম্পর্কে আরও সজাগ হবেন, আকাশ সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ বিজাতীয় সংস্কৃতি বন্ধে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসবেন-এটাই সবার কামনা।

 

ওএফ/কেবি