বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। উচ্চমাত্রায় সংক্রমণশীল নোবেল করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে তরল পদার্থের কণায় এই ভাইরাস ও সংক্রমণ কয়েক ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। আর কোনো উপরিভাগে সক্রিয় থাকতে পারবে কয়েক দিন পর্যন্ত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কোভিড-১৯ নামে ডাকা এই শ্বাসপ্রশ্বাসঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এই গবেষণায়। হাসপাতাল ও বাড়ির বিভিন্ন স্থানে এক আক্রান্তের শরীর থেকে নির্গত ভাইরাসের নকল কপি তৈরির চেষ্টা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানীরা।

তারা একটি এয়ারাসাল তৈরি করতে একটি ডিভাইস ব্যবহার করেন, যাতে হাঁচি ও কাশির ভেতরে সৃষ্ট শরীর থেকে নির্গত আণুবীক্ষণিক জলীয় বিন্দুর হুবহু নকল করা সম্ভব হয়।

এরপর বিজ্ঞানীরা বের করার চেষ্টা করলেন, উপরিভাগে কতটা দীর্ঘ সময় এই ভাইরাস টিকে থাকতে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে এই নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, কারো কাশি কিংবা হাঁচিতে নির্গত জলীয় বিন্দুতে যে ভাইরাস সৃষ্টি হয়, তা এয়ারাসলে অন্তত তিন ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে বা তা মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

প্লাস্টিক কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের ওপর তিন দিন পরেও এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। কিন্তু কার্ডবোর্ডের ওপর ২৪ ঘণ্টার বেশি এটি টিকে থাকতে পারেনি। আর কপারের ওপর নিষ্ক্রীয় হতে সময় লাগছে চার ঘণ্টা।

উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরের শেষদিন চীনের উহানে শনাক্ত হয়েছিল প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। প্রায় তিন মাস চীনে তাণ্ডব চালিয়েছে, এখন গোটা বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মহামারি।

ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্তত ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এতে মারা গেছেন ৭ হাজার ৯৬৫ জন, আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার ১২৯ জন।

এখনও করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এর উৎস দেশ চীনে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ২২৬ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার ৮৮১ জন।

এমবি