মিশরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসির বিরুদ্ধে হঠাৎ বিক্ষোভের পর গত কয়েক দিনে ১ হাজার ১০০জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘আরব নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন্স’এর প্রধান গামাল ঈদ বলেছেন, তার নিজের সংস্থার পাশাপাশি আরও দুটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গ্রেফতারের বিষয়ে নজর রেখেছে এবং এবিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিশরের কয়েক জন বিখ্যাত ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোস্তফা কামাল আল সাঈদ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ সামি আনানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাজেম হোসনিকে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া প্রখ্যাত লেখক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান নাফা নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনিও আটক হয়েছেন।
গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মিশরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে সিসি’র পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। এরপর আতঙ্ক দেখা দেয় শাসক শিবিরে। ওই ঘটনার পর থেকে সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে এবং সর্বত্র তল্লাশি চলছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে এবং রাস্তায় চলাচলকারী কাউকে সন্দেহ হলেই থামিয়ে দেহ তল্লাশি করছে। সিসি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষোভে নামে মিশরীয়রা।
মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান আব্দুল ফাত্তাহ আস সিসি।
মিশরের রাজধানী কায়রো ও দেশটির অন্যান্য নগরে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। একনায়ক সিসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিসরের বড় বড় শহর। তাহরির স্কয়ারে কিছু লোক রাত্রিকালীন বিক্ষোভে অংশ নেয়।
২০১১ সালের আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ছিল এই তাহরির স্কয়ার। আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক।
এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ব্রাদারহুডের (ইসলামপন্থী দল) হাফেজ মোহাম্মদ মুরসি।
কিন্তু ২০১৩ সালে বাহিনীর হস্তক্ষেপে সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
এরপর আইনের আওতায় মিশরে বিক্ষোভ কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ব্যতিক্রম। সেখানে দাঙ্গা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশসহ অনেক নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
এমবি





