আজ ২০ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক শহীদ আসাদ দিবস। আমাদের স্বাধীকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ এক চিরস্মরণীয় নাম।

১৯৬৯ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী আইয়ুবী সামরিক স্বৈরশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে রাজপথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন অকুতোভয় এ বীর সেনা।

তার আত্মদানে আন্দোলন হয়ে ওঠে আরো দুর্বার। গণঅভ্যুত্থানের মুখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতারকৃত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব নেতাকর্মীকেই বিনাশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

৪৫ বছর আগে ১৯৬৯ সালের এদিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তার মৃত্যুতে ৬৯-এর গণআন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়।

omipialblog_1264005673_3-omipialblog_1200835890_1-1146688674_omipialbl

সারাবাংলায় ছড়িয়ে পড়ে একটি জনপ্রিয় স্লোগান ‘আসাদ ভাইয়ের মন্ত্র, জনগণতন্ত্র’। পাকিস্তানি দখলদারিত্ব থেকে জাতিকে মুক্ত করা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল আসাদের স্বপ্ন।

গণঅভ্যুত্থানের মহান জাগরণ এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে এবং ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

শহীদ আসাদ এর পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলা তাঁর জন্ম । ছাত্র নেতা আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাষ্টার্স করছিলেন।

আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভাবে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এর ঢাকা হল শাখা প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

৬৬’র ৬ দফার পর পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করে। ছাত্র সমাজের তীব্র আন্দোলনের কারণে ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন গণ অভ্যুত্থানের রূপ নেয়।

১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিটিং করে। এ মিটিং থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১১ দফার দাবিতে ২০ জানুয়ারি হরতাল পালনের।

1143185616_omipialbl

ছাত্র সমাজ পূর্ব পাকিস্তানের সকল স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা দেয়। গভর্নর মোনায়েম খান ২০ জানুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। পাকিস্তান পুলিশ থেকে বলা হয় শহরের কোথাও চার জনের বেশি লোক একসাথে বের হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

২০ তারিখ ঢাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কলেজের প্রায় ১০ হাজার ছাত্র ছাত্রী জড়ো হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১১ দফা দাবিতে শহরে মিছিল বের করে।

ওই মিছিল মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে এসে পোছলে সেখানে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে।

ছাত্ররা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পর আসাদসহ কিছু ছাত্র সংগঠিত হয়ে আবার মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা হলের পাশে দিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে।

তখন একজন পুলিশ অফিসার ওই মিছিলের নেতৃত্ব প্রদানকারী আসাদকে ব্যানেট দিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর আহত আসাদকে খুব কাছে থেকে পুলিশ গুলি করে। পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের বর্তমান জরুরী বিভাগের সামনে আসাদ শহীদ হন।

আসাদ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এসএইচ/এআই