মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে কারাগার থেকে বিজয় প্রতীক দেখিয়ে বেরিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা বের হন।
এরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গেট থেকে সামান্য দূরে এসে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবা বিচলিত নন, আমরা হাসিমুখে বিদায় দিয়ে গেলাম।’
ওয়ামী বলেন, ‘প্রাণভিক্ষা চাওয়া প্রসঙ্গে বাবা বলেছেন, প্রাণের মালিক আল্লাহ। রাষ্ট্রপতি কে যে তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইব?’
‘বাবা বিচলিত নন, হাসিমুখে বিদায় দিয়ে গেলাম’

এর আগে গত সোমবার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর কারাগারে দেখা করতে এসে বেরিয়ে যাওয়ার পথে বিজয় প্রতীক দেখিয়েছিলেন ফাঁসির অপেক্ষায় থাকা এই কামারুজ্জামানের স্বজনরা।
শনিবার বিকাল ৪টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে করে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার পরিবারের ২১ সদস্য।
তাদের দেখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ নং কনডেম সেলে কামারুজ্জামানের সঙ্গে শেষ দেখা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার স্ত্রী নুরুন্নাহার। তাকে শান্ত্বনা দেন কামারুজ্জামান নিজেই।
কারাসূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টা পরিবারের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। কামারুজ্জামান সেলের ভেতরেই ছিলেন। একটু দূর থেকে সেলের লোহার গরাদের বাইরে থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে পান।
এ সময় কামারুজ্জামান তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার জন্য দোয়া করতে বলেন। দুপুর সোয়া তিনটার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরের সাংবাদিক কলোনির বাসা থেকে একটি মাইক্রোবাস (নম্বর: ঢাকা মেট্রো চ-১৩৭৯১৭) ও একটি জিপ গাড়িতে (নম্বর: ঢাকা মেট্রো চ-১৩৮৩৭৪) কারাগারের দিকে রওনা হন তারা।
এ দলে পরিবারের সদস্য, গ্রামের আত্মীয়-স্বজনসহ ২১ জন ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কামারুজ্জামানের স্ত্রী নূরুন্নাহার, বড় ছেলে হাসান ইকবাল, মেঝো ছেলে হাসান ইমাম, মেয়ে আতিয়া নূর, বড় ভাই কফিলউদ্দিন, দুই ভাতিজি, দুই ভাগ্নি রুখশানা জেরিন মুন্নি ও মলিসহ অন্যরা।
এদিকে দেশের বাইরে থাকায় শেষ দেখা করতে আসতে পারেননি কামারুজ্জামানের অন্য দুই ছেলে হাসান ইকরাম ও হাসান জামান।
এর আগে বিকাল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে তাদের কারাগারে গিয়ে দেখা করতে বলেন কারা কর্তৃপক্ষ।
জেএ





