বিশ্বজুড়ে বিধবা ও তাদের সন্তানদের অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২৩ জুনকে এ দিবস হিসেবে বেছে নেয়া হয়। ইউএনজিএর ১৯২ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।
সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও ইউএনজিএর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আফ্রিকার দেশ গ্যাবন সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক লুম্বা ফাউন্ডেশন কয়েক বছর ধরে এ প্রস্তাবের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিল। প্রচারাভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন গ্যাবনের ফার্স্ট লেডি সিলভিয়া বঙ্গো ওনডিম্বা।
লুম্বা ফাউন্ডেশন এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রায় ছয় কোটি বিধবা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। সিলভিয়া বলেন, 'সব জায়গাতেই বিধবা নারী আছেন। কিন্তু অনেক দেশেই তাঁরা মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ায় তাঁদের জীবনে কিছুটা হলেও আশার আলো জাগবে।' ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার লুম্বা ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট।
পুরুষের সাথে নারীর জীবন-যাপনের লড়াইয়ে, পুরুষই নারীর প্রধান ভরসা! কী ভাতের লড়াই, কী মর্যাদার লড়াইয়ে নারী সব খানেই নারী পুরুষের কাছে জিম্মি। জ্ঞানের লড়াইয়ে যদিও বা টেকে,টেকে না শক্তির লড়াইয়ে বা পুরুষতান্ত্রিক জটিলতার লড়াইয়ে। ফলে নারীকে সব সময়ই পুরুষের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হয়।
পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে বিধবাদের জীবন-যাপন যে কতটা নিদারুণ কষ্টের তা গ্রামগুলোতে দেখা যায়। এমনি একটি গ্রাম হলো সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা সাহেবগঞ্জের ঠকপাড়া। ওই এলাকায় সহায় সম্বলহীন ৯৫ ভাগবিধবা মা ভিক্ষা করে অন্ন যোগান। আর যে সকল মায়ের কিছু সম্পত্তি রয়েছে তারা আছেন অনাদরে। সমাজে সন্তানের কাছে এখন বিধবা মায়েরাই বড় ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নিকট থেকে এরকম তথ্য পাওয়া গেছে।
এমনি এক মা কদভানু (৮০)। স্বামী আফছার আলী মারা গেছেন বিগত ৬ বছর আগে। ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের জননী তিনি। প্রতি দিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সলঙ্গা গাঢ়–দহ নদীর সুইসগেটে বসে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন 'প্যাটে খাওয়ার নাইগা কিছু দে বাবা!' শনিবার দুপুরে বৈশাখের কাঠ ফাঁটা রোদে অনেক পথচারীরর সুদৃষ্টি পরে আশিতিপর এ বৃদ্ধার প্রতি। অথচ ৬ সন্তানের জননী রোদে পুরে ভিক্ষা করছেন। বৃদ্ধা কদভানুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান 'মানুষটা (তার স্বামী) মইরা যাওয়ার পর বেটারা ভাত দেয়না। বেটার বউ ধইরা মারে। না পাইরা ভিক্ষা কইরা খাই।'
স্বামীর ভিটা সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জের ঠকপাড়া গ্রামে। ছেলে আর ছেলের বউয়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঠাই নিয়েছেন মেয়ের বাড়ী মাছিয়াকান্দি গ্রামে। মেয়ের বাড়ীতে থাকার জায়গা মিললেও মেলেনি খাবার। তাই ভিক্ষা করে চলে তার পেট। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তার ভাগ্যে মেলেনি বয়স্ক ভাতা।
বিধবা মায়েদের সম্পর্কে খবর জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান 'প্রায় ৯৫ ভাগ বিধবা মায়ের সংসার চলে ভিক্ষা করে। এ সমস্ত মায়েদের তুলনায় পরিষদে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা অতি সীমিত। অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরো জানা গেছে এলাকার যে সমস্ত বিধবা মায়ের কিছু সহায় সম্পত্তি রয়েছে তাদের সন্তানেরা সম্পত্তির লোভে ভরন পোষন করলেও তাদের নেই তেমন আদর যত্ন।
এ ব্যাপারে কথা হয় সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ মালেকা খাতুনের সাথে। তিনি বলেন বর্তমান সমাজে বিধবা মায়ের অবস্থা খুবই খারাব। যে মা খেয়ে না খেয়ে সন্তান লালন পালন করেছেন সে মা আজ অনাদরে। মালেকা খাতুন আরো বলেন মায়ের যত্নের ব্যাপারে সন্তানদের সচেতন করতে জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামসহ সচেতন মহলকে এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়া এব্যাপারে কঠোর আইন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকা দরকার। তাহলে সমাজে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বিধবা মা।
বিধবা দিবসকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিশ্বের সকল মানুষনারীকে শ্রদ্ধা করুন এবং নারীর বিপদে এগিয়ে আসুন।
এমএইচ/ এআর





