আজ ২৬ আগস্ট বুধবার। ২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল এবং এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তৎকালীন বিডিআরের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ‍দুই শতাধিক।

২৬ আগস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তৎকালিন বিডিআরের সংঘর্ষে সালেকীন (২০), তরিকুল (২১) ও আমিন (১৩) নিহত হয়। আহত হয় ২ শতাধিক। এ সময় এশিয়া এনার্জির স্থানীয় অফিস ভেঙে দেয়। শুরু হয় লাগাতার হরতাল।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়ার পর এশিয়া এনার্জি নামে একটি বিদেশী কোম্পানি ২০০৫ সালের ২ অক্টোবর ফুলবাড়ীতে কয়লার সম্ভাবতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। তারা ওই এলাকায় ১১টি কূপ খনন করে। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার অধীনে ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অংশ ফুলবাড়ী প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে অবস্থিত।খনি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯ শ’ ৩৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৭শ’ ৬২ হেক্টর। খনির মেয়াদকালে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এবং প্রায় ২০ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক পর্যায়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা এবং এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ফুলবাড়ীর মানুষ ‘ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করে আন্দোলন শুরু করে।

তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি খনিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। চলতে থাকে মিছিল, মিটিং সমাবেশ। এর পরও এশিয়া এনার্জি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট।

আন্দালনের মুখে ফুলবাড়ী শহর ছাড়তে বাধ্য হয় বিডিআরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন সরকারের একজন উপমন্ত্রী ও রাজশাহী সিটি মেয়র ফুলবাড়ীতে এসে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যহারসহ ৬ দফা চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর পর থেকে এ দিনটিকে ফুলবাড়ীবাসী ফুলবাড়ী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সেই সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনতার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতায় আসলে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন।

কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি ৬ দফা চুক্তি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ সাবীর আলী বলেন, ‘ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে সম্পাদিত ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হোক। অতি দ্রুত ফুলবাড়ী থেকে এশিয়া এনার্জির সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হোক। আমরা লক্ষ্য করছি, আবার ফুলবাড়ীতে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে এশিয়া এনার্জি গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে এসে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে আজও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

এএইচ