গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমে জনজীবন যখন অস্বস্তিতে, তখন মাঝে মাঝে বৃষ্টি এসে নগরবাসীকে অনেকটাই শান্ত ও শীতল করে তুলে।বাইরের শীতলতার চেয়ে ভেতরের উষ্ণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ভিড়, চড়া, দাম এড়াতে মধ্যবিত্তরা আগেভাগেই সেরে ফেলতে চাইছেন কেনাকাটা।

ঈদ মানেই উৎসব। এই উৎসবের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমলগুলোয় জমে উঠেছে কেনাকাটা। কিছু কিছু শপিংমলে কেনাকাটা চলছে মধ্যরাত পর্যন্তও। যারা দিনের বেলা যানজট ও মানুষের ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে কেনাকাটা করতে চান, তারাই রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় করছেন মার্কেটগুলোতে।

ক্রেতারা পছন্দের পোশাকটি কিনতে ছুটছেন এখান থেকে সেখানে। মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত রাস্তা। ফুটপাতে একটু দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। মানুষ আর মানুষ। দেখে মনে হবে জনসভা বা মিছিল। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট এলাকায় এমনই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে গতকাল। ক্রেতাদের এমন ভিড়ে ব্যবসায়ীরাও খুশি। তারা মনে করছেন এমন জমজমাট অবস্থা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।

ক্রেতারা সব ভুলে এখন খুঁজছেন পছন্দের জিনিসটি। বলছেন, দাম একটু বেশি তাতে সমস্যা নেই। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করার মজাটা হারাতে চাই না। ঈদের দিন পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতেই ছুটছেন মার্কেটে মার্কেটে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিনগত রাত ১২টার পর রাজধানীর কয়েকটি অভিজাত শপিংমলে গিয়ে দেখা গেল মধ্যরাতে কেনাকাটার ব্যস্ততার চিত্র।

সমাজের নানা স্তরের মানুষ কেনাকাটায় ভিড় করলেও বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের। এদের কেউ নিজস্ব গাড়ি বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরিবিলি শপিং করতে হাজির হয়েছেন। এ কারণে মধ্যরাতেও শপিং সেন্টারের বাইরে সারি-সারি গাড়ি ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

রাজধানীর নিউমার্কেট, শাহবাগ, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এলাকার শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়, আলোকসজ্জায় সজ্জিত এ শপিং সেন্টারগুলো ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, দিনের বেলায় নানা কাজের ব্যস্ততা ও যানজটের ভয়ে যারা মার্কেটে নামেন না, তাদের জন্যই মাঝরাতে শপিংমলগুলো খোলা। তারা আসছেনও, করছেন কেনাকাটাও।

নিউমার্কেট অভিজাত শপিং মলেও মধ্যরাতে ক্রেতাদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নিজের পছন্দের জিনিসটি কেনার জন্য এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা।

ক্রেতা আল আমিন বলেন, সারাদিনে সময় বের করতে পারি না। যে সময় পাই তাতে প্রচণ্ড ভিড় ও যানজটের কারণে শপিং করে উঠতে পারবো না। এ কারণে রাত ১১টার পর নিরিবিলিতে বের হয়েছি। আমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে কেনাকাটা করি। এ কারণে মাঝরাতে এলেও সমস্যা হয় না।

নিউ সুপারের কাপড় বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন বলেন, আমরা ক্রেতাদের কথা বিবেচনায় রেখে মধ্যরাত পযন্ত মার্কেট খোলা রাখি। যেসব ক্রেতা মাঝরাতে কেনাকাটা করতে আসেন তারা নিরিবিলি পরিবেশে স্বচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, মধ্যরাতে ক্রেতার সংখ্যা ততই বাড়তে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এমই