দীর্ঘদিনের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে জাপান। জাপানের পায়ে আমেরিকা এতদিন যে শিকল পরিয়ে রেখেছিল তা থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে দেশটি। আমেরিকার চাপে তৈরি করা জাপানের সংবিধানে এতদিন সামরিক শক্তিকে দমিয়ে রাখা হয়। তবে, মঙ্গলবার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে দেশটি। খবর রয়টার্স ও বিবিসি'র।

মঙ্গলবার জাপানের পার্লামেন্টে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে, শীঘ্রই সংবিধান সংশোধন হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা তথা মিত্রশক্তির কাছে জাপানের পরাজয়ের পর জাপানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে আমেরিকা। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাপানে সংবিধানে সামরিক বিষয়ে আনা হয় ব্যাপক পরিবর্তন। সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক শক্তি নিজ দেশের এবং অন্য দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে। জাপানের এই সামরিক নীতি 'সম্মিলিত প্রতিরক্ষা' ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এই নীতিতে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত পঙ্গু এবং পরগাছার রূপ ধারণ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর থেকে আজ অবধি সামরিক শক্তির এই পঙ্গুত্ব অবস্থাকে দূর করার কোন পদক্ষেপ নেয়নি কোন সরকার। তবে, গত নির্বাচনে সামরিক নীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসেন শিনজো আবে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই প্রথম সামরিক নীতি পরিবর্তনে হাত দিল।

আমেরিকার সাথে করা সামরিক চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট আবে সরকার। তবে, এই পরিবর্তনে জাপানের শান্তি নীতির কোন ধরনের রদবদল হবে না বলেও জানিয়েছে জাপান সরকার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না উল্লেখ করে বর্তমান সরকার জানিয়েছে, আমাদের এই নীতির কারণে আমরা আমাদের স্বার্থ সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারছি না। সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি

ঢাকা, ০১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ