এবার ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ে মুখ খুললেন প্রখ্যাত মুসলিম ব্যক্তিত্ব তারিক রামাদান। ইরাক ও সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেট যা করছে তা ইসলামের মূলনীতি বিরোধী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন ও ইসলামিক রাষ্ট্র অর্থ্যাৎ খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে আইএস যা করছে তা ইসলামবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত রোববার তিনি এসব মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।
এক সময়ের 'দি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্যা লেভান্ট' (আইএসআইএল) এখন নাম পরিবর্তন করে হয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। এই আইএস এখন সারাবিশ্বের আলোচিত একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখল করে আইএস ইসলামিক খিলাফত ঘোষণা করেছে; ঘোষণা করা হয়েছে খলিফার নামও। আর খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে গণহারে হত্যা করছে, সাংবাদিকদের শিরশ্ছেদ করছে।
স্বঘোষিত খলিফা আবু বকর আল বাগদাদীর ইসলামী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের কোন স্থান নেই। বরং তাদেরকে কচুকাটা করা হচ্ছে। ভীত বিহ্বল হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণবাজি রেখে পালাচ্ছে সংখ্যালঘু শিয়া, কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকজন।
আবু বকর আল বাগদাদীর আহবানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো মুসলিম তরুণ-যুবক এই কথিত ইসলামী রাষ্ট্রে যাচ্ছে যুদ্ধ করতে। কিন্তু তারিক রামাদান কথিত এই খলিফা ও তার অনুসারীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী রাষ্ট্রের নামে আপনারা নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা করছেন কেন?
এর আগেও বিশ্বের ১২০ জনেরও বেশি মুসলিম স্কলার আইএস-এর তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতি দেন। এই খলিফা এবং তার ইসলামী রাষ্ট্রের সঙ্গে যে ইসলামের প্রাথমিক যুগের খলিফাদের পার্থক্য কী তা বুঝতে পারছেন সারা বিশ্বের মুসলিমরা।
তারিক রামাদান বলেন, "তারা (আইএস) ইসলামের পুরো বার্তাকেই নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই আমরা বলতে চাই... কী করছো তোমরা, নিরীহ-নিরপরাধ মানুষদেরকে হত্যা করছো শরীয়াহ আইন ও ইসলামী রাষ্ট্র বাস্তবায়নের নামে। এসব কিছু ইসলামের মূলনীতির বিরোধী।"
তারিক রামাদান স্পষ্টভাবেই বলেন, "এটা খিলাফত নয়। এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক খেলা; ব্যতিক্রমটা হচ্ছে- এর সঙ্গে ধর্মীয় সংযোগ সাধন করা হয়েছে এবং এ কারণেই মুসলিম স্কলার ও বুদ্ধিজীবিগণ এই খিলাফতকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তারিক রামাদান বলেন, আমরা এই সত্যটা বলতে চাই- আইএস ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করছে না। বর্তমানে অনেক মুসলিম নামধারী স্বৈরশাসকও রয়েছে, যারা ইসলামের মূলনীতির অনুসরণ করছে না।"
তিনি বলেন, "তারা (আইএস) ইসলামের মূলনীতির অনুসরণ করছে না কারণ আমাদের মূলনীতি তো পরিষ্কার: ইসলামিক রাষ্ট্রের নেতৃত্বদানকারী হবেন জনগণের দ্বারাই নির্বাচিত বা যারা তার অনুসরণ করেন, তিনি তাদের নেতা হবেন। বর্তমানে পশ্চিমাদের অনুসরণকারী অনেক দেশ আইএস-এর মতো এতোটা মন্দ নয়।"
তারিক রামাদান আরও বলেন, "মুসলমানদের প্রধান সমস্যাগুলো মুসলমানদের মধ্যে থেকেই আবির্ভূত হয়, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে।"
যেসব মুসলিম স্কলার আইএস-কে সমর্থন করেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমরা যখন মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদেরকে সমালোচনা করে কথা বলি, তখনও দেখা যাবে এক ধরনের মুসলিম বিশেষজ্ঞ আবির্ভূত হন, যারা তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন এবং আমাদের বিরোধিতা করেন।"
কেন মুসলিম স্কলারগণ মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না এবং কেন মুসলিম বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ আজ বৈশ্বিক শক্তি ও আঞ্চলিক স্বৈরশাসকদের হাতে কুক্ষিগত তা-ও ব্যাখ্যা করেন তারিক রামাদান। তবে, এর বিস্তারিত আল জাজিরার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়নি। তিনি আল জাজিরা টেলিভিশনে এর কারণটি ব্যাখ্যা করেন। গত রোববার আল জাজিরা টেলিভিশনে এটি প্রচারিত হয়। সূত্র: আল জাজিরা
এসএমএ





