ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো নয়। তাই দেশটিতে এখনো নারী-পুরুষ উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কর্মটি সম্পন্ন করে। এতে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা।
গত মাসে (মে ২০১৪) দুই মেয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য পাশের মাঠে গিয়েছিল। এ সময় তারা গণধর্ষণের শিকার হন। শুধু তাই নয় নরপশুরা এই দুই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তাদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে।
কুরমালি গ্রামের কথা
কুরমালি গ্রামটি রাজধানী দিল্লি থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। ৩০০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ৩০টি বাড়িতে টয়লেট আছে। তাই নারীরা সূর্য ওঠার আগে এবং সূর্য অস্ত গেলে দল বেধে মাঠে যান প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারা স্বার্থেই দল বেধে মাঠে যান তারা।
মাঠ আছে না, টয়লেট কেন
কুরমালি গ্রামে একটি মাত্র স্কুল। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩০০। কিন্তু এই শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ২টি টয়লেট। একটি টয়লেটের দরজা নেই। অপরটি ইট আর আবর্জনায় পরিপূর্ণ। এবিষয়ে স্কুল কমিটির একজন সদস্যকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হবে কেন। স্কুলের পাশে তো মাঠ আছে।
কৈশাল ও তার মেয়েরা
কৈলাশ (৩৮) তার ৩ মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন ভোর ৪ টায়। এরপর প্রত্যেকে এক বোতল পানি নিয়ে খোলা মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কৈলাশ বলেন, " আমরা সব সময় দলবদ্ধভাবে যাই। কখনো মেয়েদেরকে একা ছেড়ে দেই না।"
তার ছোট মেয়ে সুনু (১৮) বলেন, "আমরা সরাসরি টয়লেট করে ফিরে আসি। কখনো পথচ্যুত হই না, একা যাই। যদি কোনো ছেলে দেখি তবে তার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করি।"
নিরাপত্তার বিষয়ে তার পরামর্শ হলো, ছেলে মানুষ দেখতে পেলে "সব সময় আগ্রাসী হয়ে উঠবে।"
একটি অলিখিত বিধান
একটি অলিখিত নিয়ম হলো, পুরুষরা রাতের বেলা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য মাঠে যেতে পারবে না। তাদেরকে দিনের বেলা যেতে হবে। তবে নারীদেরকে হয়রানি করার জন্য কিছু কিছু পুরুষ রাতের বেলা মাঠে যায়।
যাহোক, অন্যের হয়রানির ঘটনাগুলো নিয়ে নারীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। তবে নিজের জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা কখনো স্বীকার করে না।
কষ্টের কথা
ভোরে প্রাকৃতিক কর্মটি থেকে ফিরে আসার পর নারীদেরকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টার আগে তারা মল-মূত্র ত্যাগ করতে পারে না। যদি কারো সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। বাধ্য হয়ে চেপে রাখতে হয়।
তবে কেউ যদি খুবই সমস্যা অনুভব করে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আছে। এসময় এক ধরনের পাত্র ব্যবহার করা হয়। তবে পাত্রটি জীবাণুমুক্ত এবং দুর্গন্ধ মুক্ত রাখা কষ্টকর। তাই এটা ফেলে দিতে হয়। সূত্র: বিবিসি।
উল্লেখ্য, লেখাটি তৈরী করা হয়েছে বিবিসি'র 'ইন্ডিয়াস লং, ডার্ক এন্ড ডেঞ্জারাস ওয়াক টু দি টয়লেট' শীর্ষক ফিচার অনুসারে। মূল লেখাটি পড়তে চাই্লে এই লিংকে ক্লিক করুন: http://www.bbc.com/news/magazine-28039513
২৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি, টিআই।





