গত সপ্তাহে চিরবৈরী কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সমাজতান্ত্রিক কিউবার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কটা ছিল বরাবরই চরম বৈরী। কিন্তু হঠাৎ করেই ওবামা কেন শত্রুরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহী হলেন? এর পিছনে রয়েছে অন্য এক গল্প।

কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারটি শুরু হয়েছে মূলত গত বছর থেকে। ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা এবং কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপার দুটি একই সঙ্গে শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিউবার বিষয়ে আলোচনাটি হয়েছে অত্যন্ত গোপনে।

ওবামা প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাসের পর মাস ধরে কানাডা ও ভ্যাটিকানে গোপন আলোচনার ফল গত সপ্তাহে প্রকাশ পেল। গত মঙ্গলবার ওবামা কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলেন ফোনে। এ সময়ই তারা দুজন প্রায় অর্ধ শতাব্দীর শত্রুতার অবসান ঘটাতে সম্মত হয়েছেন।

ওবামা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওবামা বলেছেন, "মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কোন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন যদি হয়, তাহলে তা কেবল মার্কিন-কিউবার ক্ষেত্রেই হচ্ছে।"

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছেন আরেকজন যে ব্যক্তিটি, তিনি হলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। চলতি বছরের গ্রীষ্মে পোপ ফ্রান্সিস পৃথক দুটি চিঠি লিখেন ওবামা ও কাস্ত্রোকে। এই দুই চিঠিতে তিনি দুই নেতাকে দুই দেশের বন্দী বিনিময় ও সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গত মার্চে ওবামার ভ্যাটিকান সফরের সময় পোপের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনার মধ্যে প্রধান আলোচনা ছিল কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে। অন্য যেকোন আলোচনার চেয়ে এটি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পোপের সঙ্গে ওবামার বৈঠকে।

এদিকে, এই বিষয়টিকেই সমর্থন করে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ডারবিন রয়টার্সকে বলেন, "এক্ষেত্রে (মার্কিন-কিউবা সম্পর্ক) ভ্যাটিকান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রেখেছে।" ডারবিন আরো জানান, সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে হাভানার (কিউবার রাজধানী) খ্রিস্টানদের আর্চবিশপ কার্ডিনাল জেইম ওর্তেগাও ভূমিকা রাখেন।

এ ছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত গ্রীষ্মে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্তত চারবার ফোন দেন। ফোনালাপে তিনি কিউবায় কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিক অ্যালান গ্রসের মুক্তির ব্যাপারে কথা বলেন। প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হয় ২০১৩ সালের জুনে কানাডায়। তখন বন্দী বিনিময় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

হাভানায় বন্দী মার্কিন গোয়েন্দাকে মুক্তির বিনিময়ে আমেরিকাও কিউবার তিন বন্দীকে মুক্তি দেয়। মার্কিন ওই গোয়েন্দা হাভানায় ওয়াশিংটনের হয়ে কাজ করতেন। কিউবার বন্দীরাও আমেরিকায় গোয়েন্দাগিরিতে লিপ্ত ছিলেন। কিউবার এই দুই বন্দী দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমেরিকায় আটক ছিলেন। বন্দী বিনিময়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় ভ্যাটিকানের বৈঠকে। তবে, কবে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হয় তা জানা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, ওবামা তার এই কিউবা নীতিটি সিনেটে পাস করাতে পারেন কি না। সূত্র: ওয়ার্ড বুলেটিন।

এমএ