সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ায় গত ২৮ জুন ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয় শাহীন। যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে অচেতন করে ফেলে রেখে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে যায়।
পথের মধ্যেই বারবার চিল্লায়ে উঠতেছিল, “এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।’
পুলিশ শাহীনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা হাসপাতাল ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শাহীনের রক্তাক্ত ছবিসহ খবরটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে শাহীনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গুরুতর আহত হয়ে ভ্যান হারানো সেই কিশোরচালক শাহীন মোড়ল (১৪) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা কিশোরটি দু'মাস ২০দিন পর শুক্রবার যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাড়িতে ফেরে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।শাহীন মোড়ল মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।
শাহীন জানায়, মানুষের ভালোবাসায় সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারায় সে কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রায়হান জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে শাহীন গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়িতে ফিরেছে। তার অবস্থা এখন ভালোর দিকে। তবে ডানহাতের নড়াচড়া এখনও স্বাভাবিক হয়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, মাথার ক্ষত পুরোপুরি শুকালে ধীরে ধীরে সে ঠিক হয়ে যাবে।
কেশবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন জানান, হামলার পর কয়েকদিনের মধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তারা আটক করেছিলেন। ঘটনাস্থল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় হওয়ায় মামলাটি সংশ্নিষ্ট থানা দেখভাল করছে।
এএস





