জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার সাঈদীর ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুধবার সকালে এ রায় ঘোষণা করা হবে। এ রায়ের মধ্যদিয়েই চূড়ান্ত হবে সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল থাকবে কীনা।

এদিকে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে নানামুখী মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে রীতিমতো চলছে ঝড়। টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য ফেসবুকে দেয়া এমনই কিছু মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

মোস্তফা মোঘল

রায় হতে পারে দেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। যদি রায়ের সাঈদীকে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন বা অন্যকোন দন্ড দেয়া হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আওয়ামী লীগ এবং সরকার। কারন, সাঈদীর ফাঁসি ঠেকানো গেলে জামায়াত-শিবির অহেতুক রাজপথে আন্দোলনে উৎসাহিত হবেনা।

যদি জামায়াত-শিবির আন্দোলনে না থাকে তাহলে বিএনপির পক্ষে একা একা রাজপথ গরম করা কখনোই সম্ভব নয়।

যদি সাঈদীর ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয় তাহলে পরিস্থিতি পুরোটাই চেঞ্জ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর গত বছরের ২ ও৩ মার্চ বগুড়াসহ সারাদেশের সাধারন মানুষ যেভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল তার পুনরাবৃত্তি হতেই পারে।

বিপ্লব প্রধান

লাড্ডু খাবেন? কিসের লাড্ডু? দিল্লিকে লাড্ডু! মানে? মানে খুব সোজা ! আগামিকাল সাঈদীর রায়! এ বিষয় নিয়ে নিঃসন্দেহে সুকৌশলে এগুচ্ছে সরকার! যদি ফাঁসি না হয়, তাহলে বিএনপির মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা মুনাফিকরা বলবে ওই দেখ জামায়াত সরকারের সাথে আঁতাত করেছে! সেক্ষেত্রে তারা ২০ দলীয় জোটের মাঝে ভাঙ্গন ধরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে! জোট না থাকলে এককভাবে কেউ সরকার পতন ঘটাতে পারবেনা!

যদি ফাঁসি হয়, আর জামায়াত কঠোর ভূমিকা পালন না করতে পারে তাহলে, ১. তারা সব নেতাকেই ফাঁসিতে ঝোলাবে ২. বিএনপি ভয়ে মাঠ ছেঁড়ে পালাবে! ৩.ভবিষ্যৎ কোনও আন্দোলন সফল হবে না এবং সরকার স্থায়ী ভাবে ২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে! তার মানে দু দিক থেকেই সরকারের লাভ আর বিরোধী দল হবে ক্ষতিগ্রস্থ! এই হলোও দিল্লিকে লাড্ডু!

ইসা খান রাশেদ

কালকে আবারও কোনো এক অজানা কারণে দেইল্যা রাজাকরের ফাঁসির রায় ঝুলে যাবে নাতো ??? ফুটনোট: আল্লাহর কসম, এই কথাটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না।

মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম

এই মামলায় সাঈদী সাহেবের পক্ষে নিজের ভাইয়ের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সাক্ষী দিতে এসে আদালত চত্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়েছিলেন সুখরঞ্জন বালি এবং আজও তিনি কলকাতার জেলে বন্দী। এই মামলায় স্কাইপ কেলেঙ্কারির মত মহা কেলেঙ্কারী থেকে বিচারক-প্রসিকিউশন ও তৃতীয় পক্ষের অবৈধ যোগসাজশের বিষয় টি প্রমানিত। সেফ হাউস কেলেঙ্কারী থেকে সাক্ষীদের মিথ্যা কথা শিখিয়ে দেয়া এবংউপস্থিত সাক্ষীকে পলাতক ঘোষণার মত কেলেঙ্কারী এখানে উদ্ভাসিত। ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার দায়ে ১৯৭২ সালে ভিন্ন ব্যক্তির নামে মামলা হওয়া সত্তেও ৪০ বছর পর তার দায় সাঈদী সাহেবের কাধে চাপানোর নতুন ঘৃণ্য ইতিহাস এখানে সৃষ্টি হয়েছে। এত কিছুর পর এই মামলায় তার শাস্তি হবেনা; বরং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার দায়ে তদন্তকারী ও মিত্থ্যাচার কারীদের সাজা হবে এই আশা বিচার বিভাগের কাছে আমরা করতেই পারি।

কদরুদ্দিন শিশির

কাল সাঈদীর ফাঁসিই বহাল থাকবে!!! ওইসব অস্থিতিশীলতা দমন মাত্র দুই থেকে চার সপ্তাহের ব্যাপার। এরপর সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। বরফের মতো ঠাণ্ডা! আর সাঈদীতে সফল হওয়ার পর খালেদা জিয়ার পালা। হয়তো সেটা একটু টাইম নিয়ে শুরু হবে। একটু ভিন্ন ফরমেটে হবে। এক যুগ ধরে বিদেশে চিকিৎসা নিতে তো আর আইনে কোন বাধা নেই।

মুর্তজা এস মিখাইল

ইয়া রাব্বুল আলামিন! আমি ভারতীয় মুসলিম, সাঈদী সাহেবকে নেতা হিসাবে চিনিনা। আল্লামা সাঈদীকে চিনি একজন বিশ্ব্য বরেণ্য মুফাস্সির এবং একজন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে ।

ইব্রাহিম হোসাইন

ফাঁসি চাই ভন্ড দেলু রাজাকারের, ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই।

ইব্রাহিম মোল্লা রব্বানী

আগামিকাল বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা সাঈদীর রায় দেয়া হবে একথা শোনার পর থেকে অঝর ধারায় চোখ থেকে পানি ঝরছে। হে আল্লাহ! তুমি আল্লামা সাঈদীকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও বিনিময়ে যদি নিতে চাও আমাকে নিয়ে নাও। নাহ আমি কিছু ভাবতে পারছিনা । হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী তাই তোমার কাছেই সাহায্য চাই। জালিমদেরকে ধ্বংস করে দাও, বাংলাদেশকে রক্ষা করো মাবুদ।

ইশতিয়াক হায়দার চৌধুরী

এই দুইদিনের এতো কাহিনী তাহলে আগামীকালের প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রায়ের জন্য। সিকুয়েন্স তো এমনই মনে হচ্ছে। এই দুইদিন কল্পনা নির্ভর একটি রিপোর্টকে ভিত্তি করে যে কায়দায় সমাবেশ, সেমিনার, টকশো ও বিশেষ অংগনের বিশেষ অজ্ঞদের দিয়ে ' সারদা গ্রুপ ও তৃণমূলের ইমরান থেকে টাকা নিয়ে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা প্রচার করা হল জামায়াতের বিরুদ্বে তার সত্যতা প্রমাণের জন্য কি এই অপকৌশল?

যেমন পৃথিবীর সব জায়গায় আইন যখন অবিচারের মাধ্যম হয় তখন প্রতিরোধ একটি দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আর এই বিদ্রোহ যেহেতু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, সেখানে জনতার আন্দোলনের সাথে রাষ্ট্রের সহিংস দ্বন্দ্ব অনিবার্য। তাই এই জনতার আন্দোলনকে যদি সহিংস বলা হয় কিংবা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তর মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ কিংবা হলুদ সাংবাদিকতা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়, সেক্ষেত্রে কিছু মানুষকে বিশ্বাস করানো যেতে পারে। কিন্তু সচেতন প্রজ্ঞা মানব এতে বিভ্রান্ত হবে না।

জাতির ভাই 

আল্লামা সাঈদীর আপিলের রায় আগামীকাল । যদি অন্যায় ভাবে কোন রায় আসে, তবে বার শুরু হবে নারায়ে তাকবীর এর স্লোগান । আবার গর্জে উঠবে তৌহিদী জনতা । আবার শুরু  হবে প্রতিরোধ । ভয়াবহ কম্পন শুরু হবে জালিম এর গদিতে । এদেশের ছাত্র সমাজ, যুব সমাজ, জোয়ান, বৃদ্ধ সবাই নিজেদের জিবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়বে তাগুত নির্মূলের মিশনে । আল-ক্বুরআনের এই পাখিকে বাঁচাতে প্রয়োজনে আমরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেব। ইনশা আল্লাহ

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজিবিডি.কম, কেবি