বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জিজ্ঞাসায় অতিষ্ট হয়ে এই  মন্তব্য করেন।

গত ২০ শে মার্চ সন্ধার পরে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণ করে খুন করা হয়। ঘটনার প্রায় ১৯ দিন পার হলে ও এখন পর্যন্ত কোন সুষ্পষ্টভাবে অপরাধীকে চিহ্নিত করা যায়নি। শুধু আশ্বস, তদন্ত, আর পর্যবেক্ষনের মধ্যেই রয়ে গেছে। কোন অগ্রগতি পাওয়া যাচ্ছে না। অপর দিকে পরিবারের সদ্স্যদের বারে বারে জিজ্ঞাসা করার জন্য কখনও সেনানিবাসে কখনও সিআইডিতে আবার কখনও পুলিশের কাছে। শুধু জিজ্ঞাসাই করা হচ্ছে কিন্তু আপনারা কাউরে ধরতে পারতাছেন না স্যার আর যেভাবে আমাদের বারে বারে জিজ্ঞাসা করতাছেন 'মনে হয় যেন আমরাই অপরাধী'।

গত ১ এপ্রিল সিআইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থলের তিন এলাকা পরিদর্শন করেন। এতে নেতৃত্ব দেন সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল আহম্মেদ, সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, মামলার তদন্তকর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো: ইব্রাহিম, পরিদর্শক শাহনেওয়াজ এবং ৪ জন এস আইসহ ১০ জনের একটি টিম।

পরিদর্শনকালে তারা তনুর পরিবারের লোক ছাড়াও অনেক লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন । এক সেনা কর্মকর্তার ছেলেকে ও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে ওই ছেলের বিরুদ্ধে তনুকে উত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

৪ এপ্রিল প্রথম দফা ময়না তদন্তের রিপোর্ট তৈরী করা হয় । রিপোর্ট তৈরী করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা প্রথম ময়না তদন্তে ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া জায়নি, তাছাড়া তার শরীরের আঘাতের ও কোন চিহ্ন নেই ফরেনসিক রিপোর্টে । ঠিক কি কারনে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিপোর্টে কোন ভুল আছে কিনা জানতে চাইলে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামাদা প্রসাদ সাহা জানান ডা. সুলতানা শারমিন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার। এর পর ময়না তদন্ত রিপোর্ট গ্রহন করেন বিভাগীয় প্রধান।

তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান সিআইডির সিনিয়ার পুলিশ সুপার আব্দুল কাহহার উপস্থিত ছিলেন এসময় তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মো: ইব্রাহিম ফরেনসিক রিপোর্ট গ্রহন করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আনুষ্টানিকভাবে কিছুই জানানি। এরপর সিআইডির উর্ধতন কর্মতারা বৈঠক করেন। সাবার নজর এখন দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্টের দিকে।

ফলোআপ: ২৮ শে মার্চ নিখোঁজ হন মিজানুর রহমান সোহাগ । সোহাগ টিভিতে খবর শোনার পর তনুর ছোট ভাইয়ের কাছে ফোন দেয় তনুর ব্যাপারে খেঁাজ খবর নেওয়ার জন্য সেদিন রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নিয়ে যায় সোহাগকে এমনটি জানান সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম। কিন্তু প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে নিয়ে গেলে ও এখন পর্যন্ত কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না সোহগকে, পুলিশসহ আইনশৃঙ্থলা বাহিনী ও অস্বীকার করেছে যে সোহাগের ব্যাপারে তারা জানে না।

সর্বশেষ  এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। কমিশনের চেয়ারম্যান স্বরাষ্টমন্ত্রী বরাবরে চিঠি প্রেরণ করেন চিঠিতে উল্লেখ করেন দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাতে ভালভাবে নজরদারী করা হয়। কেউ যাতে এই রিপোর্ট প্রভাবিত করতে না পারে বা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে না পারে ।

রক্তে লাল হচ্ছে বাংলার সবুজ মাটি

একের পর এক শুধু হত্যা, খুন, গুম ইত্যাদিতে ছেয়ে গেছে বাংলার  মাটি।

অপরাধীরা ধরাছোয়ার বাইরে!  দুই ধাপে  ইউপি নির্বাচনে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২৯ মার্চ চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল নি:শংষভাবে খুন হন সহপাঠীদের হাতে। ৫ এপ্রিল মগবাজারে একটি ভবন থেকে চুয়েট শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। ৬ এপ্রিল রাত ৯ টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ফিরার পথে খুন হন জবি ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ। নাজিম উদ্দিন একজন ব্লগার হওয়ার কারনে বাকী ব্লগারদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট।

'তাহলে কি? আমাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমটাই মনে করেন বিশিষ্টজনেরা '

আমাদের দেশে প্রশসন শক্তিশালী, বিচার বিভাগ শক্তিশালী, গোয়েন্দা সংস্থা শক্তিশালী কারন একাত্তরে যারা অপরাধ করেছে তাদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করতে পারছি ।

তাহলে? সেই সময়ের অপরাধের জন্য যদি তদন্ত, বিচার সবটাই সঠিক হয় তাহলে আজকাল দিনে দুপুরে যারা বাংলার সবুজ জমিনকে রক্তে লাল করিতেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারছি না কেন? আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো কি ভেঙ্গে পরেছে নাকি কেউ প্রভাবিত করছে?

সাধারন মানুষের আস্থা তাহলে যে বিচার ব্যবস্থা আমরা পরিচালিত হচ্ছে তা পুরোটাই ভুল না কি সাধারন মানুষের টাকায় প্রশাসন শুধু বিলাসিতা করছে। এই প্রশ্নের জবাব প্রধানমন্ত্রী ও এরাতে পারেন না।

বিশিষ্টজনের এসব মন্তব্য সাধান মানুষকে  ভাবিয়ে তুলছে। তাই সকলে মিলে অপরাধীদের এই স্বাধীন দেশে বিচার করা হবে কেউ ছার পাবে না।

একদিন সকলের বিচার হবে। সবাইরে এই প্রত্যাশা।

এম আর