ব্লগার, মুক্তমনা, নাস্তিক, সংখ্যালঘু হত্যা যাই হোক, থামানো যাচ্ছে না হত্যাকাণ্ড। ক্রমশ বেড়েই চলছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিরোধ এবং বিচারে সরকার ভূমিকা রাখলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সংখ্যালঘু নেতারা। হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন মহল থেকে জঙ্গীবাদকে দায়ী করা হলেও শুধুমাত্র সংখ্যালঘুরাই হত্যার শিকার হচ্ছে না, যারা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং অতি সাধারণ মানুষরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা-নির্যাতন প্রতিরোধে নানা ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হলেও ক্রমশ হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে খুবই ভীত হয়ে পড়ছে সংখ্যালঘুরা।

এ বিষয়ে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, মৌলবাদীরা একাত্তরের ধারাবাহিকতায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই শক্তির উদ্দেশ্য একটাই দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসা, যাতে করে বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশ বানানো যায়। এই মৌলবাদি শক্তির মতের বিরুদ্ধে যারা দাড়াচ্ছে সে মুসলিম হোক আর যাই হোক, তাদের উপরও হামলা হচ্ছে। যেমন এসপি বাবুলের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট নয়, আরো শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, বর্তমানেযে হত্যাকাণ্ড চলছে তাতে আমরা খুবই ভীত। গতকাল থেকে অনেক মন্দিরের পুরোহিত ফোনে যোগাযোগ করেছেন যে আমরা কি করবো। আইন শৃংখলার অবস্থা যাই হোক এবং এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই যাই হোক, আমরা ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যাকাণ্ডের পর আর কোন লাশ চাই না।

ইসকোন’র সভাপতি রুপানু গৌরদাস ব্রহ্মাচারি টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার শক্তিশালী সরকার, এ হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা পর্যাপ্ত নয়, তাদের ভূমিকা আরো শক্ত ও সক্রিয় হতে হবে। দেশে শুধু যে সংখ্যালঘুরা হত্যার শিকার হচ্ছে বিষয়টা তা নয়, মৌলবাদের বিরোধী মতবাদের লোকজন এবং অতি সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারের ভূমিকা যাই হোক, একের পর এক হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে, আমরা আর কোন লাশ চাই না। সকল মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে সরকারকে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত প্রদীপ চক্রবতী টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, পুরোহিত হত্যাকাণ্ডে আমরা খুবই বিব্রত, আপরনারা তো বুঝতেই পারছেন আমাদের মানসিক অবস্থা, কথা বলার মতো কোন অবস্থা নেই। কোন ধরণের হত্যাকাণ্ড হোক আমরা তা চাই না।

গত মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদরের করাতিপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধ পুরোহিত আনন্দ রগাপাল গাঙ্গুলিকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি মহিষাডাঙ্গা গ্রামের একটি মাঠ দিয়ে বাইসাইকেলে করে যাওয়ার সময় তাকে হত্যা করা হয়। নিহত পুরোহিতের নাম আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি। তার বয়স আনুমানিক ৭০ বছর।

এর আগে এ বছরের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে হোমিও চিকিৎসক খ্রিষ্টানধর্মে ধর্মান্তরিত ছামির আলীকে (৮০) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে কয়েকজন মুখোশধারী। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আইএস বলে, ইসলাম থেকে খ্রিষ্টানধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেলতৈলগ্রামে আবু সাঈদ ওরফে নুরু মাস্টারকে (৭০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় খ্রিষ্টান দোকানি সুনীল গোমেজকে হত্যা করা হয়েছে।

ইআর/এমআইএস