আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড দশম সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও এতে অবহেলিত বগুড়ার কেউ সুযোগ পায়নি।
‘লাভজনক পদ’ এমপি হবার সুযোগ না পেয়ে মহিলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন এবং ‘হঠাৎ’ আওয়ামী ভক্ত নারীদের মাঝে হতাশা এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই পার্টি অফিসে যাতায়াত ছেড়ে দিয়েছেন।
এমপি হতে ২১ নারী মানোনয়নপত্র জমা দেবার পর থেকে দৌড়ঝাঁপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা প্রদানসহ নানাভাবে তদবির অব্যাহত রেখেছিলেন।
গত নবম সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৫টি আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী এমপিরা এলাকার উন্নয়নে কাজ করেননি। অনেকের বিরুদ্ধে নানাভাবে লাখ লাখ টাকা উপার্জনের অভিযোগ উঠে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
গত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরকার উন্নয়নের দেখভাল করার জন্য সংরক্ষিত আসনের ৫ নারী এমপিকে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে শওকত আরা বেগম, বগুড়া-৩ আসনে (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আহমেদ নাজনীন সুলতানা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন শেফালী, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে অধ্যাপিকা অপু উকিল ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে অ্যাডভোকেট তারানা হালিমকে দায়িত্ব দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, সরকার এলাকার উন্নয়নে কাজ করার জন্য ৫ নারী এমপিকে দায়িত্ব দিলেও তারা শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছেন। কেউ কেউ এলাকায় আসেননি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়াসহ বিভিন্ন পন্থায় অর্থ উপার্জন করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদের অনেকের উপর রুষ্ট। দলের দায়িত্বশীল পদে থাকার পরও কাউকে কাউকে এবার এমপি হবার সুযোগ দেননি।
অন্যদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসনের তফশিল হলে বগুড়া থেকে ২১ নারী মনোনয়ন সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার দেন। এদের অধিকাংশই আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও এমপি হবার ব্যাপারে আশাবাদি ছিলেন। অনেকে ‘লাভজনক পদ’ এমপি হতে তদবিরকারীদের চাহিদামত অর্থ ঢেলেছেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় টিকিট না পাওয়ায় প্রায় সবাই হতাশ হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, বগুড়ায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নেতাকর্মীদের মধ্যে সু-সম্পর্ক নেই। বিশেষ কোনো কর্মসূচি ছাড়া সভা-সমাবেশ হয়না।
দায়িত্বশীল নেত্রীদের দূর্ব্যবহারে নারীরা রাজনীতি বিমুখ হচ্ছেন। নারী নেতৃত্ব বাড়াতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়না। তবে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর ডালিয়া নাসরিন রিক্তার নেতৃত্বে ভাল কাজ হচ্ছে। যুব মহিলা লীগ ইতোমধ্যে অধিকাংশ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি করেছে। তারা দলীয় সব কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // ইএইচ[/b]