আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা ও বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডসে রেকর্ড গড়া নয়; বরং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ- এই বার্তা সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়া।
এর আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ ও ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উপলক্ষ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের একটু আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে অনেকটাই সফলতা দেখিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত যে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে তা মোকাবেলা করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ঢেলে সাজানো হচ্ছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ শাসক দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সারাদেশের কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে আগামী এপ্রিল মাসে সারাদেশে সফর করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আগামী ২৬ মার্চ ৩ লাখ মানুষের কণ্ঠে একই সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনা সফল করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রস্তুতিমূলক সকল কার্যক্রম প্রায় শেষ করেছেন।
২৬ মার্চের অনুষ্ঠান সফল করতে আলাদাভাবে কয়েক দফা বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলের হাইকমান্ড লোক সমাগমের ব্যাপারে টার্গেট বেঁধে দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের ।
সেচ্ছাসেবক লীগের এক বর্ধিত সভা থেকে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আগামী ২৬ মার্চ লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে গত ২১ মার্চ (শুক্রবার) সকালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করেছে। এ সভা থেকে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডকে ৫০০ করে লোক সমাগমের টার্গেট দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ অনুষ্ঠানের পোষ্টার লাগানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের নীতি নির্ধারকরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৪ মার্চ আরেকটি বৈঠক করবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ৮ম শ্রেণীর উপরের সকল ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ২৬ মার্চ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেঁজগাও কলেজসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদেরকেও বলা হয়েছে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশগ্রহণ করবেন এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে সাধারণ জনগণও।
আগামী ২৬ মার্চ একই সঙ্গে ৩ লাখ কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় প্যারেড গ্রাউণ্ড। নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। মাঠে ঢোকার জন্য তৈরী করা হয়েছে ১৬০টি গেট। ২৬ মার্চ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাঠের মধ্যে প্রবেশ করা যাবে। এর পরে আসলে মাঠের বাইরে বসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীগণ পাবেন ক্যাপ, ব্যাগ, জাতীয় পতাকা, খাবার পানি, দুপুরের খাবার, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও একটি সনদনপত্র। এছাড়াও কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য থাকবে বিশেষ হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা। মাঠে বিনোদনের জন্য থাকবে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা।
ওইদিন ঠিক সকাল ১১টার সময় ৩ লাখ কণ্ঠে গাওয়া হবে জাতীয় সংগীত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নকারী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের বলার পর আমরা তার প্রস্তাবকে সাদরে গ্রহণ করেছি। এ জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দেশের মানুষ জাগ্রত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের নৃশংস হামলা থেকে দেশের সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, পশু-পাখি ও গাছপালা কিছুই রক্ষা পায়নি। তাদেরকে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই আমরা জাতীয়ভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই জাতীয় সংগীতের আয়োজন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশ পালন করা আমাদের দায়িত্ব।
[b]ঢাকা, এমআর, ২২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি [/b]
টাইম ফোকাস
বিশ্ব রেকর্ড নয়, বিএনপি-জামায়াত প্রতিরোধেই লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত
আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা ও বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডসে রেকর্ড গড়া নয়; বরং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ- এই বার্তা সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়া।





