কথায় আছে 'কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ'। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি বাংলার সাধারণ জনগণের ভাগ্যে। প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সফরে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বলা হয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ করা হবে ট্রাফিক ব্যবস্থা। মোদি ঢাকায় পৌঁছানোর পরে তিনি যেখানেই যাবেন সেই এলাকায় নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি থাকবে নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থা।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান নরেন্দ্র মোদী। তিনি বিমানবন্দর পৌঁছানোর আগে থেকেই বিমানবন্দর এলাকসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় সাধারণ জনগণের চলাফেরা এবং যানচলাচল।

বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা রাস্তায় সর্বসাধারণ এবং যানচলাচল বন্ধ ছিলো।

যে ভোগান্তির স্বীকার হয়েছে সাধারণ জনগণ। এই ভোগান্তির ভুক্তভোগি কিছু সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলেছিলাম।

মোশাররফ হোসেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন তিনি। অফিস ফার্মগেট। থাকেন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট।

তিনি বলেন, আমি প্রতিদিনের ন্যায় আজও মোহাম্মদপুর আসি বাসে উঠার জন্য। এসে দেখি রাস্তা বন্ধ, কোন গাড়ি নেই। মনে করলাম আসাদগেট পার হয়ে আড়ং এর সামনে থেকে বাস পাবো। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। কি আর করা, হেটে আসতে বাধ্য হলাম।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের এই রকম ভোগান্তিতে না রেখে সরকার বলে দিতো আজ ঢাকার সকল সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকবে তাহলেইতো ভালো হতো। এই যে ফার্মগেট পর্যন্ত হেটে আসলাম তাও আবার কয়েক জায়গাতে পুলিশ আটকিয়ে রেখেছিলো। হাটাও যাবে না?

আমিনুল ইসলাম থাকেন শ্যামলী। যাবেন পুরান ঢাকায় তার উকিলের চেম্বারে। কিন্তু তাকেও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত হেটে আসতে হয়েছে। তার ভাষায়, ভাই অন্যান্য দেশের প্রধানমন্ত্রীওতো আসেন। এমন ভোগান্তিতে আগে কখনোও পড়িনি। এই রোদে হাটতে কেমন লাগে বলেন ভাই।

মানিক মিঞা এভিনিউয়ের পশ্চিম মাথায় আড়ং এর সামনে এমনই ভোগান্তির শিকার এক বয়স্ক লোক সন্তুষ্ট প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে থাকা লোক জনের সাথে বলছিলেন, সবকিছুই ঠিক আছে ভাই। কিছুই বলা যাবে না, যদি কিছু বলি তাহলে ভাই রাজাকার হয়ে যাবো। সরকার বিরোধি হয়ে যাবো। তার থেকে ভালো কিছু না বলা। যেমনে চলছে তেমনে চলুক।

সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ জনগণের ভোগান্তির ব্যপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলমের সাথে কথা বললে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে আমাদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি যে যে এলাকায় যাবেন সেই এলাকার যানচলাচল এবং সর্বসাধারণের চলাচল আধাঘন্টা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের একটু ভোগান্তিতো হবেই।

প্রথম বাংলাদেশ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকায় পৌঁছান শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে। সেখান থেকে প্রথমেই তিনি সরাসরি চলে যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

সোয়া ১১ টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু সময় পর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের চলাচলের জন্য গাবতলী থেকে ধানমণ্ডি আসার পথ, কারওয়ান বাজার যাওয়ার পথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে মিরপুর রোড ও পান্থপথের সড়ক বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

যার ফলে মানিক মিয়া এভিনিউ, আগারগাঁও থেকে খামারবাড়ি, মহাখালী থেকে ফার্মগেইট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নগরবাসীকে আটকে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

এছাড়া মিরপুর রোডের সঙ্গে সংলগ্ন সায়েন্স ল্যাবরেটরি, পান্থপথ ও আগারগাঁও থেকে শ্যামলী পর্যন্ত সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতেও যানজট ছড়িয়ে যায়। বাংলা মোটর থেকে মগবাজার হয়ে মালিবাগ ও মৌচাকসহ সংশ্লিষ্ট সড়কেও প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার পরে নরেন্দ্র মোদীর গাড়িবহর সোনারগাঁও হোটেলে ঢুকলে সব সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু যানযটের তিব্রতা এখনোও লেগে আছে পুরো ঢাকা জুড়ে। যার একান্তই সঙ্গি সাধারণ জনগণ।

এমআর