পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রেই রয়েছে অধিকার বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষ। মানবিক বিপর্যয়গ্রস্ত এসব মানুষগুলোর পাশে দাড়াবার জন্য যেমন ভালো লোকের অভাব রয়েছে তেমনি পাশে দাড়াবার জন্য রয়েছে উন্নত মানবিক মর্যাদার অধিকারী কিছু ভালো মানুষও। মানুষের জন্যেই মানুষ এ শ্লোগান কে সামনে রেখেই মানবসেবায় এ ভালো মানুষগুলো বিলিয়ে দেয় নিজেদের জীবন।
এরা মানুষের বিপদে-আপদে, সংকটকালে, বিপর্যয়ের সন্ধিক্ষণে ছুটে এসে সাহায্য করে। এ মানুষগলো মনে করে মানুষ হিসেবে জন্ম অনেকটাই অপূর্ণ আর অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি মানবসেবায় নিজেরা কাজে না লাগে।

মানুষের মানবিক প্রয়োজনে সাড়া দেবার ইচ্ছেটুকু না থাকলে নিজেকে একজন ‘মানুষ’হিসেবে দাবি করার খুব একটা যৌক্তিকতা নেই।
তাই বিশ্বের নানা দূর্যোগপূর্ণ অঞ্চল পীড়িত মানুষকে সেবাদান করতে ছুটে যায় অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা করতে নিজের জীবন বিপন্ন করছে, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। যারা অন্যের বিপদে সাহায্য করার জন্যই ছুটে যায় এবং অন্যের সেবার ঝুঁকি নিয়ে থাকে।

এমন সব কল্যাণকামী মানুষকে সন্মান ও জীবনদানকারী মানুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ১৯ আগস্ট এদিনটিকে বিশ্ব মানবিক দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
২০০৩ সালের ১৯শে অগাস্ট ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ক্যানাল হোটেলে জাতিসংঘের কার্যালয়ে একটি গাড়ী বোমা আক্রমণ সংঘটিত হয়।
এ ঘটনায় যে ২২ জন মানুষ প্রাণ হারান, তাদের মধ্যে ছিলেন ইরাকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং প্রাক্তন মানবাধিকার হাই কমিশনার সের্জিও ডি মেলো।
জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলন ২০০৮ সালের ঐ ১৯শে অগাস্ট তারিখটিকে বেছে নেয় বিশ্ব মানবিক দিবস হিসেবে।
২০০৮ সালে জাতিসংঘের মোট ১২২ জন কর্মী বিভিন্ন সংঘাতের এলাকায় কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দশ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৬। ক্রমেই আরো বেশী জাতিসংঘের ত্রাণকর্মী সশস্ত্র হানা এবং অপহরণের শিকার হচ্ছেন।
বিগত তিন বছরে যত আক্রমণ ঘটেছে, তার তিন-চতুর্থাংশ সংঘটিত হয়েছে বিশ্বের ছ'টি দেশে, যে তালিকায় প্রথমেই আসে সুদান, এবং বিশেষ করে দারফুরের নাম। এর পরের স্থানগুলোয় রয়েছে সোমালিয়া, আফগানিস্তান, চাদ, ইরাক এবং পাকিস্তান।
মানবিক ত্রাণ কর্মীদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নানা কারণ আছে। কিন্তু মূল কথা হল যে তাদের পরিকল্পিত ভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
আক্রমণকারী জঙ্গিরা হয় নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়; নয়তো তাদের রাজনৈতিক দাবী-দাওয়া আছে; এবং অনেক সময় নিছক টাকা সংগ্রহের তাগিদে। আবার মানবিক ত্রাণ কর্মীদের পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে দেখার প্রবণতাও বেড়েছে।
জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ত্রাণ সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর ফরাসী কর্মী এলেইন ক' ৯-ই জুন, যেদিন পেশাওয়ারের পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেল বোমায় বিধ্বস্ত হয়, সেদিন পাকিস্তানের ঐ শহরেই ছিলেন। কিন্তু অন্য হোটেলে।
তাই তিনি প্রাণে রক্ষা পান, কিন্তু তাঁর সহকর্মী আলেক্সান্ডার ভরকাপিচ'কে জীবন দিতে হয়। তাই এলেইন বলছিলেন: "এটা সত্যিই অদ্ভূত। একদিকে দুঃখ হয়, ভয় হয়। অন্যদিকে নিজের অনুভূতিগুলোকে ভুলে গিয়ে কাজ করে যেতে হয়।''
এলেইনের এ কথাই বিশ্ববাসীকে স্বরণ করিয়ে দেয়- মানবসেবার জন্যই মানুষ; সেবাই মানুষের ধর্ম।
এমকে





