আজ ২৪ অক্টোবর। ৬৭তম জাতিসংঘ দিবস। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৪৫ সালের এই দিনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্ব সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। লিগ অব নেশনস বিলুপ্ত হয়ে গেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতার এই আন্ত:রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি গঠন করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর প্রায় চার বছরের চেষ্টা ও ধারাবাহিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে আজকের এই দিনে এসে প্রাথমিকভাবে ৪৬টি সদস্য-দেশ জাতিসংঘ সনদকে অনুসমর্থন দেয়।
পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষ্যে ভাষণ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন।
তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই জাতীয় পতাকা হলো গর্ব ও দেশপ্রেমের প্রতীক। কিন্তু শুধুমাত্র একটি পতাকাই আছে যেটি আমাদের সকলের।
জাতিসংঘের সেই নীল পতাকাটি কোরিয়া যুদ্ধ কালে আমার বেড়ে ওঠার সময় আমার জন্য ছিল আশার একটি পতাকা ।
প্রতিষ্ঠার সাত দশক পরও জাতিসংঘ সকল মানব জাতির জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসেবেই রয়ে গেছে।
প্রতিদিন জাতিসংঘ ক্ষুধার্তের জন্য খাদ্যের সংস্থান এবং বাসস্থান থেকে বিতাড়িত মানুষদের জন্য আশ্রয়ের বাবস্থা করে।
জাতিসংঘ শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগে টিকাদান করে, অন্যথায় যারা মৃত্যুমুখে পতিত হতো।
জাতিসংঘ জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, লিঙ্গ অথবা যৌন ধারণা নিবিশেষে সকলের জন্য মানবাধিকার সুরক্ষা করে।
আমাদের শান্তিরক্ষীরা সংঘর্ষ ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে অবস্থান করে, আমাদের মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতকারীদের শান্তি বৈঠকে নিয়ে আসে, আমাদের ত্রাণকর্মীরা ভয়ঙ্কর পরিবেশে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করে।
জাতিসংঘ সমগ্র মানব পরিবারের সাত শত কোটি মানুষের জন্য কাজ করে এবং যত্ন নেয় ধরিত্রীর, যেটি শুধু আমাদের এবং একমাত্র আবাস স্থল।
এবং এরাই হলো জাতিসংঘের বৈচিত্র্যমুখি এবং প্রতিভাবান কর্মী, যারা সনদকে জীবনের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী তাঁদের উৎসর্গকে স্বীকৃতিদান এবং বহুসংখ্যক লোক যারা কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁদের প্রতি সন্মান প্রদর্শনের একটি মুহূর্ত ।
এই বিশ্বকে নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয় এবং দুঃখজনকভাবে সন্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা খুবই স্পষ্ট। এখনও পর্যন্ত কোন একক দেশ বা সংস্থার পক্ষে এককভাবে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভবপর নয়।
জাতিসংঘ সনদের সীমাহীন মূল্যবোধ আমাদের জন্য অবশ্যই পথ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। আমাদের সবার কর্তব্য হলো আমাদের শক্তিকে একত্রিত করে সমগ্র বিশ্বের জনগণের সেবা করা।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্মৃতিস্তম্ভ ও ভবনগুলো জাতিসংঘের নীল রঙে সাজানো হচ্ছে। মাইলফলক বার্ষিকীর এই আলোক প্রজ্জলনকালে আসুন, আমরা সবার জন্য একটি উন্নততর ও উজ্জ্বলতর ভবিষ্যত রচনায় আমাদের অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করি।
এসএইচ





