আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, আর কোনো মা যেন রাস্তায় রাস্তায় না কাঁদে। আমি কা কে নিয়ে বাঁচবো। আমার একটা মাত্র মেয়ে ছিল। অর বাপ মরার পর অরে নিয়াই বাইচা ছিলাম। আমার মেয়ে টাকে আমি শেষ দেখাও দেখতে পাইলাম না।

এই কথা বলতে বলতেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন শাহিদা আক্তার। তার মেয়ে শান্তা আক্তার ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে মারা যায়। মেয়ের লাশও পাননি শাহিদা। যার কারণে কোন সাহায্য সহযোগিতাও পাননি তিনি।

মাথায় পানি দেয়ার কিছুক্ষণ পর আবার জ্ঞান ফিরে শাহিদা বেগমের। জ্ঞান ফিরার পরে শাহিদা বলেন, আমার মেয়েটাকে পাইলাম না। আমার মেয়েকে যে মারলো, তার হত্যার বিচারও কি পাব না। আমরা খুব কষ্টে আছি কিন্তু যারা মারলো তারা তো জেলে ভালই আছে। তাদের টাকা আছে, তাই তারা ভাল থাকে আর আমরা বিচারের দাবিতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াই। আর কোনো মা যেন আমার মত রাস্তায় রাস্তায় না কাঁদে।

শাহিদা বেগমের মত মায়ের সংখ্যা কম নয়, স্বামী হারা স্ত্রী, সন্তান হারা বাবা, বাবা-মা হারা সন্তান, স্ত্রী হারা স্বামী রয়েছে অগনিত। যাদের সবার কথা টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা পত্রিকায় আসে না।

আজ ২৪ এপ্রিল অনেকেই সাভারের রানা প্লাজার স্থানের সামনে এসে স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়েছেন। অনেক শ্রমিক সংগঠনের তরোপ থেকে নানা রকম কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এই ক্ষতি গ্রস্ত মানুষদের প্রতি সবার দরদ যেন প্রতি বছরে একবার উচলে উঠে।

তাই এক রকমের ক্ষোভের কথাই জানালেন শ্রমিকরা। তারা বললেন, আগে শ্রমিক সংগঠনগুলো আমাদের খোঁজ নিত কিন্তু এখন তারা সরকারের টাকা খেয়ে সরকারের কথাই বেশি বলে, শ্রমিকদের কথা তারা ভুলে গেছে।

তাদের এই অভিযোগের সত্যতা মিললো যেন চোখের সামনেই। ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান যখন বক্তব্য রাখেন তখন অনেক শ্রমিক তার কথায় প্রতিবাদ করে দাড়িয়ে যায়, ঠিক তখন তাদেরই কেউ কেউ যারা সাধারণ শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের চুপ করতে বলেন এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখেন।

আশার দিক হল, ডা. এনাম বলেছেন, রানা প্লাজার জায়গায় একটি স্মৃতি সৌধ বানানো হবে, ২৪ এপ্রিল যাতে সাভারে সকল কারখানা বন্ধ রাখা হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে এবং রানা প্লাজার জায়গায় বহুতল ভবন বানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পূনর্বাসন করা হবে।

এছাড়া তিনি আরো ঘোষণা করেন, এখনো যারা অসুস্থ তাদের এনাম মেডিকেল বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়া অব্যহত রাখবে।

ইআর