‘যাকাত’ শব্দের অর্থ পবিত্র ও বৃদ্ধি পাওয়া। যেহেতু ‘যাকাত’ আদায়ের ফলে অবশিষ্ট সম্পদের পবিত্রতা ও বৃদ্ধি সাধিত হয়, সেহেতু একে ‘যাকাত’ বলা হয়। যাকাতের গুরুত্ব এত বেশি যে, পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি যাকাত আদায় করার জন্যও সমান তাগিদ দেয়া হয়েছে। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ‘যাকাত’ দিতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন।
মাহে রমজানের সাথে ইসলামের অন্যান্য বিধি-বিধানের মতো ‘যাকাত’-এর সম্পর্ক আছে। ইসলামের অন্যতম ভিত্তি ‘যাকাত’। ঈমান ও সালাতের পরে যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। অনেক ইবাদতই কুরআনুল কারীমে মাত্র ২/৪ বার উল্লেখিত হয়েছে, যেমন রোযা, হজ্জ ইত্যাদি। আবার কিছু ইবাদত অনেক বেশী বার উল্লেখ করা হয়েছে।
কুরআনে একবার বললেই ফরয হয়ে যায়। বারবার বলার অর্থ গুরুত্ব বুঝানো। সালাতের পরে সবচেয়ে বেশী যাকাতের কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত বড় কাজ বুঝাতে বলি “নামায-রোযা”, কিন্তু কুরআনে কোথাও “নামায-রোযা” বলা হয় নি, সব সময় বলা হয়েছে “নামায-যাকাত”।
ইসলামের যাকাত ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্য বিমোচন করা। যাকাতের মাধ্যমে দুভাবে দরিদ্রদেরকে সাহায্য করতে হবে। প্রথমত তাদের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানো এবং দ্বিতীয়ত তাদের দারিদ্রের স্থায়ী সমাধান করা।
তবে অপরিকল্পিত এবং যাকাতের নীতিবহির্ভূত পন্থায় আদায় করার ফলে সাময়িকভাবে কিছু দরিদ্র লোকের উপকার হলেও স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে সমাজে এর কোনো প্রভাব দেখা যায় না। যাকাত গরিবদের প্রতি ধনীদের অনুদান বা দয়া নয়; বরং আল্লাহ তা’আলা ও রাসূলে করিম (স.) পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হক।
ইসলামী রাষ্টব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই যাকাত আদায় করছে না। আর যারাও করছে তারাও সঠিকভাবে সম্পদের হিসাব-নিকাশ না করেই কিছু শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে নিজেদেরকে দায়িত্ব থেকে মুক্ত মনে করছেন।
এ অবস্থার পরিবর্তন হয়ে ইসলামের সেই সোনালী দিন আবার ফিরে আসতে পারে যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এমনটাই দাবি সমাজকর্মীদের।
এএইচ





