দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরও ভারতে সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারছে না বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত ১০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।
সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের নয় মাসে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলারের উপরে। এ জন্য নতুন করে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। সে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে ঢাকা।
ভারতে মোদি সরকার আসার পর ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। ইতিমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরের পর এ উদ্যোগ আরো জোরালভাবে কার্যকর করছে শেখ হাসিনা সরকার।
ইতিপূর্বে সাবেক ইউপিএ সরকারের ঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনা সরকার শঙ্কায় ছিল মোদি সরকারের মনোভাব নিয়ে। যা সুষমার ঢাকা সফরে কেটে গেছে। এরপর থেকেই শেখ হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও নৌপরিবহণমন্ত্রী বৈঠক করে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বণিজ্য বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে কিভাবে আরো বাণিজ্য বাড়ানো যায় সেসব বিষয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনাও করেছেন।
সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরো দুটি নতুন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
এ ছাড়া আরো তিনটি স্থলবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রনালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়।
পাশাপাশি রেল মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আখাউড়া-আগরতলা রেল লিংকের কাজ দ্রুত শেষ করতে ও রোহনপুর-সিনবাদ এবং রাধিকাপুর-বিরল রেল লিংক কার্যকর করা জন্য।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা-গুয়াহাটির মধ্যে বিমান চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। গুয়াহাটি এবং চেন্নাইতে বাংলাদেশের উপহাইকমিশন এবং আগরতলা ভিসা অফিসকে হাইকমিশনে রূপান্তর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ উভয় দেশের মধ্যে কোস্টাল শিপিং চালু করতে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং নয়াদিল্লি মিশনে লোকবল বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাণিজ্য বাড়াতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে কাজ চলছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য: ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ এই নয় মাসে মোট বাণিজ্য হয়েছে ৪৭৪ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের। ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট বাণিজ্য হয়েছে ২৯৬ কোটি ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরের বাণিজ্যের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ৫২৪ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫০৯ কোটি ডলার।
ভারত থেকে পাঁচ বছরের আমদানির পরিমাণ: ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ এই নয় মাসে ভারত থেকে মোট আমদানি করা হয়েছে ৪৪৬ কোটি মার্কিন ডলারের। ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ ৪৭৪ কোটি ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরের আমদানির পরিমাণ ৪৭৪ কোটি ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৪৫৯ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২১ কোটি ডলার।
ভারতে পাঁচ বছরের রফতানির পরিমাণ: ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ এই নয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মোট রফতানি করা হয়েছে ২৮ কোটি মার্কিন ডলারের। ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট রফতানির পরিমাণ ১৮ কোটি ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে রফতানি করা হয়েছে ৫১ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ডলার।
সূত্র: দৈনিক যুগশঙ্খ (আসাম)
ঢাকা, ১০ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





