টানা ১৩ ঘন্টা জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান এবং রাত যাপন করেও শেষ রক্ষা হয়নি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
গত সোমবার বিকেল ৩ টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক নেতাদের শেলটারে থেকেও পুলিশের গ্রেফতার এরাতে পারলেন না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের অফিস কক্ষে অবস্থান নেয়া সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গত সোমবার বিকেল ৪ টা থেকে আজ সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ছিলেন। ওই কক্ষেই তিনি সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করেন।
আজ সকাল থেকেই প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অন লাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক প্রতি মুহুর্তে প্রেসক্লাবের সংবাদ প্রচার করতে থাকেন।
জানা যায়, আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মূলফটকের সামনে বিকেল সোয়া ৪ টায় জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক নেতাদের বেস্টনীর ভেতর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ । সঙ্গে সঙ্গে পুলিশী নিরাপত্তায় তাকে মিন্টোরোডে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। তবে আগামীকাল বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
পুলিশ র্কমকর্তারা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত ডিসেম্বর মাসে বকশিবাজার এলাকায় ভাংচুরের ঘটনার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষ দর্শিদের মতে, মঙ্গলবার গ্রেফতারের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। ওই সময় আরো বক্তব্য রাখেন,সাংবাদিক নেতা ও পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহল আমি গাজী, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এমএ আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম,ডিইউজের একাংশের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার,সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
প্রেসক্লাব থেকে বিকেল চারটায় বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকসহ বের হন মির্জা ফখরুল। সোয়া চারটার দিকে প্রেসক্লাবের মূল ফটকদিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যাবার সময় ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শাহবাগ থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
প্রত্যক্ষ দর্শিরা জানান, সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ডিবির সদস্যরা মির্জা ফখরুলকে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের প্রিজন ভ্যানসহ বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মির্জা ফখরুলের গাড়ি প্রহরা দিয়েকে প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বেরিয়ে যায়।
শওকত মাহমুদ:
এদিকে সাংবাদিকে নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ে স্বেরাচার বিরোধী আান্দোলনের সময় এবং ১/১১ পরবর্তী দুই বছরে জরুরী শাসনামলের সংকটময় মুহুর্তে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়ার উদাহরণ রয়েছেন। এটা আমাদের গৌরবের বিষয়।
শওকত মাহমুদ বলেন, হঠাৎ করেই বুলবুলসহ সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ ফখরুলের প্রেসক্লাবে অবস্থানের বিরোধিতা করেন এবং প্রেসক্লাবে বহিরাগতদের দিয়ে হামলার হুমকি দেন। এটা খুবই অনাকাঙ্খিত এবং দু:খজনক।
তিনি বলেন, গতকাল প্রেসক্লাবের ভেতরে ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ সাংবাদিকদের একটি অংশ জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বক্তব্য দিয়েছেন। হানিফের ওই বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ ও কুরুচিপূর্ণ।
গতকাল বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের নামে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল তরুনরা তার ওপর হামলা চালাতে চায়। মির্জা ফখরুলকে ধরার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ প্রেসক্লাবের বাইরে অবস্থান নেয়। আর তখনই প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেন ফখরুল।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী:
অপরদিকে, মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়া প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব কোন রাজনৈতিক নেতার অবস্থানের জায়গা নয়। এখানে বসে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালানোর কোন অধিকার কারো নেই।
বিএফইউজের অপর অংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আবদুল জলিল ভূইয়াসহ অণ্যান্য সাংবাদিক নেতা মেনে নেয়নি। তারা প্রতিবাদ সভা, সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল এবং আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। বেলা দুইটার মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দিতে হবে। পরে তারা ৩টায় পর্যন্ত সময় বেধে দেয়।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কর্মীদের নিয়ে গতকাল (সোমবার) থেকে প্রেসক্লাবে অবস্থান করছেন যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে বসে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইকবাল সোবহান বলেন, যে কোন রাজনৈতিক নেতা প্রেসক্লাবে আসতে পারেন, আমরা তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবো, কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, কোন বহিরাগত প্রেসক্লাবে অবস্থান করবেন, প্রেসক্লাবের পরিবেশ নষ্ট করবেন।
তিনি বলেন, প্রেসক্লাব কোন রাজনৈতিক নেতার আড্ডাখানা বা আশ্রয়স্থল নয়। প্রেসক্লাব চলে তার নির্ধারিত নিয়ম ও আইনের অধীনে। প্রেসক্লাবের কার্যক্রম সাংবাদিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ২ দিন যাবৎ জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কেন্দ্র করে। প্রেসক্লাবের ভেতরে বিভিন্ন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং দেয়ালের বাইরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারিতে ছিলেন ।
একে