অবশেষে সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মানসিক প্রতিবন্ধী আব্দুল কাদেরকে তার বাড়ির পাশে নির্জন বাগানের গর্ত থেকে শিকলবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিকালে খেশরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই মো. ইসমাইল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল বলেন, সংবাদটি দেখা মাত্রই তিনি খেশরা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জকে শিকলে বন্দি আব্দুল কাদেরকে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেন। এমনকি নিজ দায়িত্বে তাকে খুমেকে পাঠানোর ব্যবস্থাও তিনি করেন। তার সু-চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আব্দুল কাদের একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। বয়স প্রায় ৫৩ বছর। বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহাজাতপুর গ্রামে। পাইকগাছার রাড়ুলি আর.কে.বি.কে হরিশচন্দ্র কলেজিয়েট ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে কপিলমুনি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর একই কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় আকস্মিক মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে তার।
আব্দুর কাদেরর দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও সুখের হয়নি। ছোট মেয়ে ফাইমার জন্মের পরেই একেবারেই বিগড়ে যান কাদের। স্বজনদের ধরে মারপিট, ভাঙচুর ও প্রতিবেশীদের ক্ষতিসাধন শুরু করতে থাকেন। প্রতিদিন বাড়তে থাকে তার পাগলামি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে তাকে প্রথমে বারান্দায় হাতে-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু করেন। তবে, সারাক্ষণ উচ্চস্বরে চিত্কার ও অশ্লীল বাক্যবাণে বিরক্ত হয়ে পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে বাগানের মধ্যে গাছে বেঁধে রাখা শুরু করেন। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের ফেলে এখন তার ঠাঁই হয়েছে বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে অন্ধকার গর্তে। রাত-দিন ঝড়-বৃষ্টিতে এক হাত ও পায়ে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার গদ্যময় নিঃসঙ্গ জীবন। সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-সাধ আটকে গেছে আঁঁটসাঁট একটি গর্ত ও তার উপর পড়ে থাকা একটি ছোট মেহগনি গাছের উপর। এভাবেই গত প্রায় চারটি বছর অন্ধকার গর্তেই নিঃসঙ্গতায় কাটে তার জীবন।
জেড





