আজ ঘরের কাছে স্বপ্নের ফাইনাল। তাই তো স্বপ্ন একটু বেশি। টাইগাররা কি পারবে ১৬ কোটি বাঙালীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে?
গত কয়েকদিন ধরেই পথে-প্রান্তরে, হাটে-মাঠে, চা এর দোকানে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে সর্বত্র চলছে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
মাশরাফিরা ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়বেন এমন প্রত্যাশায় একসুতোয় গেঁথে উঠবে মাঠ ও মাঠের বাইরে থাকা ১৬ কোটি প্রাণ। প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা উঠবে বাংলাদেশের ঘরে।
স্বাগতিক হওয়ায় টাইগারদের ওপর প্রত্যাশার চাপ থাকবে আকাশচুম্বি। তবে আশার কথা হলো, টাইগার দলপতি মাশরাফি স্বাগতিক দর্শকদের উপস্থিতি ও তাদের প্রত্যাশাকে চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না। ম্যাচ জয়ের প্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছেন ১৬ কোটি প্রাণের প্রত্যাশাকে।
‘আমাদের ম্যাচে দর্শক সবসময়ই পাশে থাকেন। তাদের জন্যই আমাদের এতদূর আসা। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমরা ভালো খেলে থাকি। তারা আমাদের ম্যাচের বড় একটি অংশ।’
ঠিক এভাবেই ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের দিন শনিবার (০৫ মার্চ) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাঠে দর্শকদের সরব উপস্থিতির প্রয়োজনীতা জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
২০১২ এশিয়া কাপে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের সেই হারের পর সাকিব-মুশফিকদের কান্না কাঁদিয়েছিল গোটা দেশকেও।
চার বছর পর সেই পাকিস্তানকে হারিয়েই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে। সেই সঙ্গে ২০১২ সালের ফাইনালে হারের ক্ষতে দিয়েছে সান্ত্বনার প্রলেপ। এখন স্বপ্নের শিরোপা থেকে মাত্র এক কদম দূরে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠানরত এবারের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাও তো সবার জানা। সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পাঁচটি জয় থাকলেও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে হার সব কটিতেই। আজ ফাইনালের আগে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা নিতে পারে তাই ওয়ানডে থেকেই।
গত বছর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে ২-১-এ হারানোর স্মৃতিটা এখনো টাটকাই। ২০১২ সালে তো এই এশিয়া কাপেই ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
মিরপুরে সেদিন শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে গিয়েছিল তামিম, সাকিব, নাসির, মুশফিকদের দারুণ ব্যাটিংয়ের কাছে। ২০১২ এশিয়া কাপের সেই সুখস্মৃতি আজ ফাইনালেও ফিরবে?
এটা সন্দেহ নেই ভারত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব সময়েই শক্তিশালী দল। তাছাড়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ধোনিরা ১ নম্বরে আর বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে মাশরাফিদের খেলতে হবে মূলত এমন বাস্তবতাকে সামনে রেখেই। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বিশ্বসেরা এই দলটিকে মাশরাফি সমীহ করলেও ভয় পাচ্ছেন না একেবারেই। আর শিরোপা জিততে তাদের বিপক্ষে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক খেলা নয় বরং স্বাভাবিক খেলাটি খেলেই দারুণ কিছু করতে চাইছেন তিনি।
‘ভারত টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল। তারা শুধু টি-টোয়েন্টি ফরমেটেই নয়, টেস্ট এবং ওয়ানডেতেও ভালো মানের দল। তবে, আমরা আমাদের সেরা খেলাটি খেলেই শিরোপা জিততে চেষ্টা করবো।’
এদিকে, স্বাগতিক হওয়ায় ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে কন্ডিশন মাশরাফিদের পক্ষেই কথা বলছে। হোম কন্ডিশনের এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাইগাররা জয় পেতেই পারেন। তবে মাশরাফি মনে করেন, শুধু কন্ডিশন অনুকূলে থাকলেই হবে না। ম্যাচের শুরু ও শেষটা অবশ্যই ভালো করতে হবে।’
এদিকে ম্যাচে নিজেদের পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারকে গুরুত্ব দিয়ে টাইগার অধিনায়ক জানান, ‘ভারতের বিপক্ষে আমরা প্রথম ছয় ওভার ভালো বল করতে চাই। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
দলের তরুণদের বড় শক্তি বলে মনে করেন দলনেতা মাশরাফি। ভারতের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী এ ম্যাচে খেলতে দলের তরুণ ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তার অনুপস্থিতি মাশরাফিকে ভাবালেও আলআমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদের পেস নৈপুণ্যে ভারতের বিপক্ষে দারুণ কিছু করার অভয় যোগাচ্ছে তাকে।
‘আমরা আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছাড়াই খেলছি। এটা অবশ্যই একটা ব্যাপার। তবে, আলামিন-তাসকিন ভালো খেলছে, এটা আমাদের মতো একটা উঠতি দলের জন্য সু-সংবাদ।’
ফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্কোয়াড: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান/মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও আবু হায়দার রনি।
ভারতের সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হারডিক পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা/হরভজন সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশিষ নেহরা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন।
ওএফ





