ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের টোলের টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অনুসন্ধান এবং তদন্ত কার্যক্রম চলিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খানের সমর্থনপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে নানা কৌশলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের  টোলের টাকা লোপাট করে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ তাহসিনুর হক ২৪ মার্চ সায়েদাবাদ টার্মিনালের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ার এবং ডিএসসিসির ম্যানেজার মারুফ হাসানকে ডেকে নিয়ে টোলের টাকা লোপাটের বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একই সঙ্গে ওই টার্মিনালের সহকারি টোল আদায়কারী আবদুর রাজ্জাক রানাকে খোঁড়া অজুহাতে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মওকুপ করার বিষয়টি নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ার ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত  প্রথম দফা দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে টার্মিনালের আদায় টোলের টাকা, পানি, বিদ্যুৎ বিল, ক্যান্টিনের টাকাসহ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে জমা দেননি তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ার। পরে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়।
বরখাস্ত হবার  আড়াই মাসের মাথায় ২ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ারকে পুনরায় সায়েদাবাদ টার্মিনালে ওই পদে বহাল  করা হয়। তিনি ২০দিনের মধ্যে সমুদ্বয় বকেয়া টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য  ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গিকার নামা দাখিল করেন। পরে গত বছর ২০ এপ্রিল তাকে দ্বিতীয় দফা সায়েদাবাদ টার্মিনালে ওই পদে পুনরায় বহাল করা হয়। কিন্তু গত এক বছরেও ছরোয়ার এবং সহযোগী টোল আদায়কারী আবদুর রাজ্জাক রানা সমুদ্বয় বকেয়া টাকা ডিএসসিসিতে জমা দেয়নি। এখনো ২০ লাখের বেশি টাকা অনাদায়ী রয়েছে বলে জানা যায়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, খলিলুর রহমান নামে অপর এক ব্যক্তি সায়েদাবাদ টার্মিনালের সহযোগী টোল আদায়ের দায়িত্ব নিয়ে ডিএসসিসিতে প্রথমে দৈনিক ৮০ হাজার টাকা জমা দেয়ার আবেদন জানান। কিন্তু তার আবেদন আমলে না নিয়ে  দৈনিক মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা নিয়ে আবদুর রাজ্জাক রানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এক বছর রানা দৈনিক ৭৮হাজার টাকা জমা দেয়। পরে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি খলিলুর রহমান দৈনিক ৯০ হাজার টাকা জমা দেয়ার আবেদন জানান। কিন্তু তার আবেদন বিবেচনা না করে ওই সিন্ডিকেটের  সদস্য আবুল কালামকে ৯০ হাজার ২০০ টাকায় টোল আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।  
এদিকে গত ২৮ মে খলিলুর রহমান দৈনিক ৯৫ হাজার টাকা জমা দেয়ার আবেদন জানান। অথচ এখনো তার আবেদন বিবেচনায় না নিয়ে ওই সিন্ডিকেটেই আবার টোল আদায়ের দায়িত্ব দেয়ার পায়তারা করছেন ডিএসসিসি।
এদিকে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান বলেন, সায়েদাবাদ টর্মিনালের টোলের বকেয়া টাকা আদায়ের বিষয়টি অনেক পুরনো। এছাড়া প্রতিবছর তো টোল আদায়কারী পরিবর্তন করা যাবে না। আগের লোকজনকেই রাখা হচ্ছে।
[b]ঢাকা, একে, ২৬ এপ্রিল (টাইমনিজবিডি.কম) // জেএ [/b]