মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায় হবে যে কোনো দিন।

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

গত বছরের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, ৫টি অভিযোগে (চার্জে) সাজার বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ফাইন্ডিংস (পর্যবেক্ষণ) নীতিভ্রষ্ট বলেও মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আদালতে কোন সাক্ষীই বলেনি যে কামারুজ্জামান কাউকে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ রাষ্ট্রপক্ষ বলছে কামারুজ্জামান নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার হলে চূড়ান্ত রায়ে খালাস পাবে কামারুজ্জামান।

প্রথম অভিযোগ (বদিউজ্জামান হত্যা): ১৯৭১ সালের ২৯ জুন শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার রামনগর গ্রাম থেকে মো. বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্পে নিয়ে সারা রাত নির্যাতন ও পরদিন গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়,আলবদরদের সশস্ত্র একটি দল বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে,যাদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে হত্যা করা। অপহরণের ঘটনাটি কামারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আলবদরের সবাই জানত।

প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল বলেন,কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদরের দলটি কূটকৌশলে বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে এবং আহম্মেদনগর ক্যাম্পে সেনাদের কাছে হস্তান্তর করে,যার পরিণতি এই আসামি ভালো করেই জানতেন। জেনেশুনে এ কাজ করার মাধ্যমে তিনি হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে উৎসাহ জুগিয়েছেন,উসকানি দিয়েছেন ও সহায়তা করেছেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের এই অভিযোগের জবাবে আসামীপক্ষ তার আপিল আবেদনে যেসব যুক্তি দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ৪ ও ৬ যথাক্রমে আব্দুল মান্নান দবির ও হাসানুজ্জামান। সাইদুর রহমানের কাছ থেকে বদিউজ্জামানের হত্যার বিষয়ে সে শুনেছে। সাইদুর রহমান সেখানে হাজির ছিল। সাইদুর রহমান বলছে আমি দেখিনি। দেখেছে মুকবুল। অথচ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে শুনানীতে মুকবুলকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করেনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ (সৈয়দ আবদুল হান্নানের প্রতি অমানবিক আচরণ): আসামি ও তাঁর সহযোগীরা শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নানকে প্রায় নগ্ন করে শহরের রাস্তায় হাঁটাতে হাঁটাতে চাবুকপেটা করেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়,হান্নানের প্রতি অমানবিক আচরণের ঘটনাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং ওই ঘটনা আসামির পূর্ণ সহযোগিতায় ও জ্ঞাতসারে হয়েছে।

এই অভিযোগের জবাবে আসামীপক্ষ আপিল আবেদনে বলেন, কথিত নির্যাতিত আব্দুল হান্নান এখনও জীবিত অথচ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হিসেবে তাকে হাজির করেনি। এই অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ২, ৩ ও ১৪ যথাক্রমে মোহন মুন্সি, জহিরুল হক ও মুজিবুর রহমান।

শুধু তাই নয়, সাক্ষীদের বক্তব্যেও রয়েছে গড়মিল। সাক্ষী মোহন মুন্সি বলেছেন হান্নানের ওপর নির্যাতনের ঘটনা মে মাসে ঘটেছে। অপরদিকে, আরেক স্বাক্ষী জহিরুল হক বলেছেন ঘটনাটি অক্টোবরে ঘটেছে।এ অবস্থায় ঘটনার সত্যতা নিয়েই দেখা দিয়েছে সংশয়।

তৃতীয় অভিযোগ (সোহাগপুরে নির্বিচারে হত্যা): রাষ্ট্রপক্ষের ১১,১২ ও ১৩ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুসারে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সদস্য এবং পাকিস্তানি সেনারা সম্মিলিতভাবে সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও নারী ধর্ষণ করে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়,যৌন নির্যাতনের শিকার তিন নারীর সাক্ষ্যে ওই অপরাধের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। কামারুজ্জামানের কর্মকাণ্ড,আচরণ ও প্রভাবের মাত্রা—সবকিছু মিলিয়ে এ ঘটনায় তাঁর অংশগ্রহণকেই প্রতিষ্ঠা করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আলবদর নেতা কামারুজ্জামান এখানে ‘উপদেষ্টা’র ভূমিকা পালন করেন এবং তিনি পুরো ঘটনা জানতেন। সোহাগপুরে দলগতভাবে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা ও নির্বিচার যৌন হামলার দায় নেতৃস্থানীয় কামারুজ্জামানের ওপর পড়ে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের এসব অভিযোগের জবাবে আসামীপক্ষ আপিল শুনানিতে যেসব যুক্তি দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ১, ২, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ যথাক্রমে মোহন মুন্সি, সালাম, হাসান বান, হাফিজা বেওয়া, করফুলি বেওয়া। সাক্ষী ১,২ ও ১৩ ঘটনা দেখেনি। সাক্ষী ১০,১১ও ১২ কামারুজ্জামানকে চেনেন না। এমনকী সাক্ষী ১১, ১২ ও ১৩ স্বাধীনতার আগে কামারুজ্জামানকে দেখেননি।

এদিকে সরকারপক্ষের ২ নম্বর সাক্ষী আদালতে বলেছেন সোহাগপুরে মানুষ মেরে শেরপুরে আনে ট্রাকে করে। অথচ ঐ সময় সেখানে বাস/ট্রাকের রাস্তা ছিল না। আর রাস্তার দূরত্ব ছিল ৪০ কিমি। সাক্ষীদের কারও বক্তব্য সঠিক নয়।

চতুর্থ অভিযোগ (মোস্তফা হত্যা): এই অভিযোগে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদর সদস্যরা গোলাম মোস্তফাকে অপহরণ করে সুরেন সাহার বাড়িতে স্থাপিত আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী মোহন মুন্সির ‘স্যারের হাত এখন সই হইছে,এখন সাহস হইছে, বন্দুক চালাইতে পারে’—এ বক্তব্য গোলাম মোস্তফা হত্যায় কামারুজ্জামানের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

এই অভিযোগের জবাবে আপিল শুনানিতে আসামীপক্ষ যুক্তি দিয়ে বলেন, ঘটনা ২৩ আগষ্ট ১৯৭১। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ২, ৩, ১৪(মজিবুল হক পান্নু) এবং সাক্ষী ১৪ বলছে ঘটনা ঘটেছে মে মাসে। অথচ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট মেজর রিয়াজ আহত হয়ে পাকিস্থান চলে গেছেন ঘটনা ঘটার বেশ কিছুদিন আগেই। তাহলে কিভাবে ঘটনা ঘটল? সাক্ষী ২ বলেছেন তাদের মধ্যে সমস্ত কথা হয়েছে উর্দুতে, আমি উর্দু বুঝিনা।

ভিকটিমের ভাই মোশাররফ তালুকদারকে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন এই মামলার সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেন। এই সাক্ষী আদালতে বলেন,পরবর্তীতে তার পরিবার আবুল কাসেম (যাকেও তালুকদারের সাথে হত্যা করার জন্য ধরে নেয়া হয়েছিল এবং তিনি পালিয়ে আসেন ) এর কাছে শুনেন কামারুজ্জামান ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। মোশাররফ তালুকদারের বয়স ছিল তখন মাত্র ১১বছর। তার এই প্রামানিক সাক্ষ্য গুরুত্ব সহকারে নেয়ার কিছু নেই।

পঞ্চম অভিযোগ (আহম্মেদনগর ক্যাম্পে হত্যা): ঝিনাইগাতীর আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে,ক্যাম্পে বন্দী ১১ জনের মধ্যে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়,বাকি আটজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের ১৪তম সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুসারে,ঘটনার দিন কামারুজ্জামানের নির্দেশে চারজন বন্দীকে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের ৭ ও ১৪ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

ষষ্ঠ অভিযোগ (টুনু হত্যা): টুনু হত্যার জন্য কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটিও রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। রায়ে বলা হয়,রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী বলেছেন,আসামি ময়মনসিংহ জেলা কাউন্সিল ডাকবাংলোয় স্থাপিত আলবদর ক্যাম্পে যাতায়াত করতেন এবং রাতের বেলা বিভিন্ন অভিযানে যেতেন। টুনুকে ওই আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রমাণের জন্য এ বক্তব্য যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া অনির্দিষ্ট কারও কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে ওই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার ওপর ভিত্তি করে কাউকে অপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সপ্তম অভিযোগ (দারাসহ ছয়জনকে হত্যা): রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুসারে,দারা ও তাঁর বাবা টেপা মিয়াকে অপহরণ করে আলবদর সদস্যরা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। প্রথম সাক্ষী বলেছেন,ওই ক্যাম্পে ২০-৩০;কখনো ৪০ জন আলবদর সদস্য অবস্থান করতেন। নবম সাক্ষী বলেছেন,কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদররা প্রায়ই ওই ক্যাম্পসংলগ্ন নদীর ঘাটে নিয়ে গুলি করে লোকজনকে হত্যা করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী বলেছেন, কামারুজ্জামানকে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাঁর ক্যাম্প কার্যালয়ে দেখা যেত।

আসামীপক্ষের যুক্তি: কামারুজ্জামান টেপা ধারাকে অপহরন করে নিয়ে আসে। সাক্ষী ১, ৯ ও ১৫ যথাক্রমে হামিদুল, আবুল কাশেম, কবির হোসেন। তিন জনের একজনও বলেনি কামারুজ্জান তাকে অপহরন করেছেন।

সাক্ষী ১ বলেছেন আমি বন্দী থাকা অবস্থায় তাদের নিয়ে আসে। সাক্ষী ৯ বলেন আমার সাথে হামিদুল ছিলেন। সাক্ষী ১৫ বলেন আমি তাদের ক্যাম্পে দেখেছি। আবার বলেন ২০ নভেম্বর আমি তাদের ডাক বাংলায় দেখেছি।

এসব সাক্ষ্যের বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়,ওই ক্যাম্পে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পদ্ধতি কামারুজ্জামান পরিচালনা করতেন। ওই পদ্ধতির মধ্যেই দারা ও টেপা মিয়াকে অপহরণ এবং পরে দারাকে হত্যা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে আরো বলা হয়,ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বেসামরিক নেতাদের ওপরও বর্তায়। কারণ,অধস্তন বা প্রকৃত অপরাধীদের ওপর তাঁদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকে। এটা প্রমাণিত যে,অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে দুটি আলবদর ক্যাম্পে বা আলবদর সদস্যদের মাধ্যমে অথবা আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্প থেকে। আলবদর ক্যাম্পগুলোতে বা আলবদর সদস্যদের ওপর কামারুজ্জামানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আশা করছেন- একাত্তরে বৃহত্তর ময়মনসিংহে হত্যা,ধর্ষণ,লুটপাট পরিচালনাকারী পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর আলবদর বাহিনীর নেতা কামারুজ্জামানের আপিলের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে।

শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহায়তাকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল হক টুটুল বলেন,“আমরা আদালতে বলেছি,সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং দালিলিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে একাত্তর সালে কামারুজ্জামানের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে তার সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকা উচিত।”কামারুজ্জামানের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সংবাদপত্র,এমনকি তার জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের প্রতিবেদনেও এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কামারুজ্জামানের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন,ট্রাইবুনাল যে পাঁচটি অভিযোগে তাকে সাজা দিয়েছিল। আমরা ওই সব চাজের্র ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেছি। আমরা আশা করি তিনি খালাস পাবেন।

তিনি বলেন,সোহাগপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল ২৫ জুলাই ১৯৭১ সালে। কিন্তু সাক্ষীরা জেরায় ভিন্ন ভিন্ন তারিখ উল্লেখ করেছেন। এতেই বুঝা যায় সাক্ষীরা মিথ্যা বলেছেন।

কামারুজ্জামানের আইনজীবী এসএম শাহজাহান চার নম্বর অভিযোগের বিষয়ে বলেন,গোলাম মোস্তফা হত্যা সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মোহন মুন্সি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।তিনি তার সাক্ষ্যে বলেছেন,কামারুজ্জামান উর্দুতে পাকিস্তানী একজন মেজরের সঙ্গে কথা বলেছেন,তাতে তিনি গোলাম মোস্তফাকে হত্যার বিষয়ে বলেছেন।

আইনজীবী বলেন,এ সাক্ষী জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি উর্দু বোঝেন না। কিন্তু একাত্তর সালে তিনি কিভাবে উর্দু কথা বুঝতে পারলেন?

উল্লেখ্য, এ বছরের ১৮ মে থেকে কামরুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে কামরুজ্জামানের মামলার শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়।

গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান। আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট,১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকি দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে সে অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।

ঢাকা, কেএ, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি