ঢাকা শহরের বিরক্তিকর যানজট ও প্রচণ্ড গরমে নগর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। খরা তাপের মধ্যে পথে বের হওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে পথচারী ও কর্মজীবি মানুষের।
অবশ্য তীব্র এ তাপদাহ থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য অনেকেই অবলম্বন করছেন বিভিন্ন রঙ-বেরংয়ের ছাতা তারপরেও মিলছে না স্বস্তির নিশ্বাষ।
অন্যদিকে অফিসগামী মানুষেরা গরম ও যানজটের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত নিদৃষ্ট সময়ে গন্তেব্যে যেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সিগনালের অপেক্ষায় দাড়িয়ে না থেকে পায়ে হেটে রওয়ানা দিচ্ছেন গন্তব্যের দিকে।
একে তো গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। তার ওপরে অসহনীয় যানজটে সে অতিষ্ঠতার মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।এমনিতে দেশজুড়ে চলছে প্রায় ৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
সবমিলিয়ে মাথার উপর খরা আর ঢাকা শহরের চিরচেনা যানজটের দীর্ঘ সারি নগরজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
তাছাড়া রাস্তায় রিকশা আর রিকশা। দূরপাল্লার বাসও অনেক বেশি। তাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই দেখা যায় গাড়ির লাইন। বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নেমেছে প্রাইভেট কারও। সিএনজিও আছে সমান তালে, সঙ্গে লাখ লাখ রিকশার সারি।
কিন্তু সবই স্থবির হয়ে পড়ে আছে সারিবদ্ধভাবে। প্রতি দশ মিনিটে এগোচ্ছে ১০ ফুট। নাকাল মানুষ, সেই সঙ্গে যানজট সরাতে আরো নাকাল ঘর্মক্লান্ত ট্রাফিক পুলিশ। ফুটপাতেও হাঁটা দায়, হাজারো মানুষের ছুটে চলা, সঙ্গে উল্টো পথে আছে মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল, কোথাও কোথাও ফুটপাতে উঠে গেছে রিকশাও।
মানুষের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীকুলও দেখা গেছে পানি আর শীতল ছায়ার জন্য হাসফা করছে। মানুষ দিনের প্রথমভাগে কাজ শুরু করলেও তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে আবার বিকেলের ছায়ায় পথে নামছেন মানুষ।
নিউমার্কেটের সিলভার ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘গরমের কারণে ব্যবসা এখন এক বেলায় ঠেকেছে। ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। এই গরমের মধ্যে মানুষ ঘরথেকে বের হয় না। বিকেলে কিছু লোক বের হয়। আর বিকেলেই কিছূ মালামাল বিক্রি হয়।
গতকাল দেখা গেল বাবুবাজার ব্রিজ থেকে গাড়ির লম্বা লাইন আঁকাবাঁকা গুলিস্তান পর্যন্ত। এক যাত্রী বলেন ৩০ মিনিট হলো গাড়ি এক চুলও লরেনি।অনেক যাত্রী ও গাড়ির ড্রাইভাররা বলেছেন, তারা জীবনে এতো ব্যাপক যানজট আর দেখেননি। প্রায় সবগুলো বাসে ঠাসাঠাসি মানুষ প্রচণ্ড গরমে ঘেমে অস্থির।
এমনি দৃশ্য চোখে পড়েছে রাজধানীর কলাবাগান থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত মাত্র ৫ মিনিটের পথ ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায়। কিন্তু জানজট না কমায় বহু মানুষকে দেখা গেছে বাসে থেকে নেমে গিয়ে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলেছে গন্তব্যে।
এমই





