সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে কয়েক হাজার হাজি হতাহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২৮ জন ইরানি হাজিও রয়েছেন। এছাড়া, ২৪৬ জন ইরানি হাজি নিখোঁজ ও ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মিনা দুর্ঘটনায় আহত এক ইরানি নারী হাজি  ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি'র সংবাদদাতার কাছে বর্ণনা করেছেন বৃহস্পতিবারের মর্মান্তিক ঘটনা। তার পুরো বক্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

'আমার স্বামীকে স্তূপ থেকে টেনে ওঠালাম, কিন্তু আমি নিজেই লাশের স্তূপের মধ্যে আঁটকে গেলাম। তখন শুধুমাত্র আমার মাথা ও হাত বাইরে ছিল। আমি চিৎকার করতে লাগলাম, কিন্তু কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। আমার আশপাশের কিছু লোক তখনও নিঃশাস নিচ্ছিল। সহযোগিতার অভাবে তারাও আমার চোখের সামনে মরে গেল।

সৌদি বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা আমাদেরকে দেখলেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। ৪-৫ ঘন্টা এভাবেই পড়ে ছিলাম। সমানভাবে মানুষ শুধু মরছিল, শত চিৎকার করেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

এরই মধ্যে কয়েকজনকে যেতে দেখলাম, জানি না পুলিশ ছিল না সাহায্যকারী।

আইআরআইবি: তারা কি ইরানি ছিল না সৌদি?

সাক্ষাতকারদাতা: সৌদি  ছিল। আমিতো কোনো ইরানিকেই দেখিনি।

আইআরআইবি: যারা এসেছিল তারা কি সাধারণ মানুষ ছিল না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিল?

সাক্ষাতকারদাতা: তাদের পোশাক সবই একই ছিল। আমি তাদের একজনের প্যান্ট টেনে ধরলাম এবং বললাম: আমাকে এখান থেকে মুক্তি দেন, আমি মরে যাচ্ছি। তখন তারা বলল: আমরা দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করিনি, এখন খেতে যাচ্ছি। আমি বললাম: দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমি মরে যাচ্ছি, আর আপনারা খেতে যাবেন?

অবশেষে আমাকে রেড ক্রিসেন্ট বাহিনী সদস্যরা নিয়ে গেল। সন্ধ্যায় আমি হুশ ফিরে পেলাম। আমার যখন হুশ ফিরে এল তখন আমাকে বলা হলো: চলে যাও। যদিও তখন আমার পা ভাঙ্গা ছিল, হাত কাজ করছিল না। তারপর আমাকে একটি কামরায় নিয়ে গেল এবং বলল: ‘ম্যাসেজ’। আমি শুধু ম্যাসেজ শব্দটা বুঝলাম। আর কিছুই বুঝতে পারিনি।' সূত্র: রেডিও তেহরান

ইআর