একের পর এক বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। অপরাধীকে আইনের আওতায় না এনে কিছু পুলিশ সদস্য ভয়ঙ্কর সব অপরাধে সম্পৃক্ত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা বেআইনি সব কাজ করছেন। কেউ আবার টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের সাহায্যও করছেন।
অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশের এমন সখ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনও বিব্রত। রাজধানীর মিরপুরকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসায় পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। গতকাল বুধবার মিরপুরের দারুসসালাম এলাকা থেকে ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে কনস্টেবল কামরুল হাসানকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
পুলিশের সহায়তায় রাজধানীতে একাধিক ছিনতাই চক্র সক্রিয়। নিয়মিত এসব চক্রের কাছ থেকে নেওয়া হয় মাসোয়ারা। স্বর্ণ চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গেও পুলিশের রয়েছে দহরম। নগরীতে সিভিল টিমের সদস্যরা এখন রীতিমতো আতঙ্ক।
বিভিন্ন এলাকায় আটক-বাণিজ্যে এগিয়ে রয়েছেন তারা। আটকের পর টাকা না দিলে অনেককে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা মামলায়। গত রোববার মিরপুরে মাহবুবুর রহমান সুজন নামের এক ব্যবসায়ী পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ সুজনের পরিবারের।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জাহিদুরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকারসমকালকে বলেন, পুলিশ শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বাহিনীর যারাই শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন। কেউ বেআইনি কাজ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।পুলিশই যখন অপরাধী
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রচুর সহিংস ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রশাসনকে এসব ঠেকাতেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয়। নজরদারিতে শৈথিল্যের সুযোগে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যরা নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল প্রচুর। একটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের আটক-বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদনও দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য আটক-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল।
নির্বাচনের পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক।
খোদ পুলিশের ওপর হামলা-হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলাতেও তদন্তসংশ্লিষ্টদের এই প্রবণতা দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিস্মিত। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায়ও পুলিশের জড়িত থাকার অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব আমলেই রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। রাজনৈতিক নেতারা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করেন। এর পর একসময় পুলিশ নিজেরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত পুলিশ কর্মকর্তাদের পোস্টিং হয় সরকারি দলের মন্ত্রী-সাংসদ ও নেতাদের ইচ্ছায়। এসব পুলিশ সদস্যের ওপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ কমই থাকে। ওসিদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের মাত্রাতিরিক্ত সখ্যও পুলিশের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখায় প্রতি মাসে গড়ে এক হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। তবে এসব ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ায় গেলে ভয়ে কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান না।
অপরাধ প্রমাণ না হওয়ার সুযোগে অনেকেই ছাড় পেয়ে যান। এর মধ্যে যারা শাস্তির আওতায় আসেন, তাদের বেশিরভাগই পুলিশ কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) পর্যন্ত সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শক থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্টরা প্রভাব বিস্তার করে তা ধামাচাপা দেন। শুধু আলোচিত ঘটনায় অকাট্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কমই সাজা পান।
মিরপুরে মাদক ব্যবসায় পুলিশ :রাজধানীর মিরপুরে মাদক ব্যবসা করছে খোদ পুলিশের সদস্যরা। গতকাল দারুসসালাম এলাকা থেকে কনস্টেবল কামরুল হাসানকে ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
এ সময় কামরুল ইসলাম পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন। এর পর তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। কামরুলের পকেট থেকে একশ' পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দারুসসালাম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কনস্টেবল কামরুলকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে।
চোরাই স্বর্ণ পুলিশের ভোগে! :চোরাকারবারিদের গাড়ি থেকে উদ্ধারের পর ১৬৫টি স্বর্ণের বার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন রামপুরা থানার তিন পুলিশ সদস্য ও এক সোর্স। প্রাথমিক তদন্তেই ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই থানার তৎকালীন ওসি কৃপাসিন্ধু বালা ও পরিদর্শকসহ (তদন্ত) চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
পরে তাদের একজন এসআই মঞ্জুরুল ইসলামসহ অপর তিনজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪৯টি স্বর্ণের বার। অন্য তিনজন হলেন রামপুরা থানার দুই কনস্টেবল ওয়াহেদুল ও আকাশ চৌধুরী এবং সোর্স রনি। ১৩ মার্চ রাতে রামপুরা ব্যাংক কলোনির বালুর মাঠ এলাকা থেকে চোরাকারবারিদের পরিত্যক্ত প্রাইভেটকার উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনাপ্রবাহের শুরু হয়।
১৬ মার্চ রাতে ওই গাড়ির একটি সিটের নিচে লুকানো ৭০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। তখনই জানা যায়, গাড়িতে ছিল মোট ২৩৫টি স্বর্ণের বার। শেষ পর্যন্ত ৩১ মার্চ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। তবে ১৬টি স্বর্ণের বার হাওয়া হয়ে গেছে।
ছিনতাইকারী চক্রে পুলিশ :গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকায় মে মাসে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম হাবিব ও রমনা থানার এসআই মোজাহিদুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্র জানায়, একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট আবুল কালাম ৮ এপ্রিল দুপুরে মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশন থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হন আবুল কালাম ও সাইদুর রহমান নামের এক গাড়িচালক। এ ঘটনায় পুলিশ চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে দুই পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার তথ্য। তাদের সহায়তায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলেও জানা যায়। তারা ছিনতাই করা টাকার ভাগও নিয়েছিলেন।
টাকা না পেয়ে পিটিয়ে হত্যা :পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। রোববার ভোরে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজন মিরপুর থানা পুলিশের হেফাজতে মারা যান। স্বজনরা বলছেন, সুজনের কাছে দেড় লাখ টাকা চেয়েছিলেন এসআই জাহিদুর রহমান খান।
টাকা না দেওয়ায় ধানমণ্ডির শঙ্করের বাসায় তাকে আরেক দফা পেটানো হয়। পরে থানা হেফাজতেও বেধড়ক পিটুনির ফলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই জাহিদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নিরপরাধ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি গত ৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ইরানী ক্যাম্পের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মোহাম্মদ জনিসহ কয়েকজনকে আটক করেন। থানা হেফাজতে তার পিটুনিতে অসুস্থ জনি পরদিন হাসপাতালে মারা যান। পল্লবীর কুর্মিটোলা ক্যাম্প এলাকা থেকে ২৪ জানুয়ারি জাভেদ নামের এক যুবককে ধরে পাঁচ হাজার টাকা চান জাহিদ। টাকা দিতে না পারায় প্রথমে তাকে মারধর এবং পরে সিরামিকস রোডে নিয়ে তার পায়ে গুলি করা হয়।
পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মিরপুরে একের পর এক পুলিশ অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনায় অনেকে মিরপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খানকে অভিযুক্ত করেন। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির মাসিক অপরাধ সভায় অভিযোগ তোলা হয়েছিল।গত বছরের ৬ জুলাই রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে ব্যবসায়ী শামীমকে আটক করে দুই লাখ টাকা চায় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ।
টাকা না দেওয়ায় তাকে হরিণধরা চামড়াশিল্প এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে অভিযুক্ত এসআই এমদাদ ও এএসআই আতিকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। চার্জশিটে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়।
আরও কয়েকটি ঘটনা :চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি অপহৃত হন মিরপুরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শফিকুল ইসলাম। ২৩ জানুয়ারি সাভারের জয়েনবাড়ির মকবুল মার্কেটের পেছনের একটি কক্ষে কফিনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বনানী এলাকায় অপহরণকারী চক্রের সদস্য বাবুকে দেওয়া হয় মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনা তদন্তে কাফরুল থানার এসআই মনিরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সাভারে এক ডলার ব্যবসায়ীকে অপহরণের সময় সাভার থানার এএসআই ফাজিকুল ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে র্যাঅব-৪।
তাদের কাছে সরকারি একটি রিভলবার, ১৩ রাউন্ড গুলি ও হ্যান্ডকাফ পাওয়া যায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ভাটারা থানার এএসআই সজল কান্তি হীরা নূরেরচালা বাজার থেকে জাহাঙ্গীর মিয়া উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় পুলিশ।
গত বছরের ১৬ মে রাতে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ সদস্যসহ দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নায়েক হেমায়েত উদ্দিন ও গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার কলমেশ্বর এলাকার বাসিন্দা কবীর হোসেন।
একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে কাফরুল থানার এসআই মোশাররফ হোসেন, এএসআই রবিউল আলম ও কনস্টেবল নেয়ামত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা একজন ভারতীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছিলেন।
পুলিশের যত সাজা :পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে ১৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুদণ্ড, অর্থাৎ বড় ধরনের সাজা পেয়েছেন ৭২৩ জন।
একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে লঘুদণ্ড পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫৫০ জন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক_ অন্তত দুই হাজার ২০০ জন বিভিন্ন মাত্রায় শাস্তি পেয়েছেন। তাদের কাউকে তিরস্কার, কাউকে সতর্ক করাসহ নানা ধরনের বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে মাত্র ১৫ জনের বড় ধরনের শাস্তি, অর্থাৎ চাকরিচ্যুত করা হয়। এর আগে ২০১৩ সালে পুলিশ কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জনকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্তত ৭০০ পুলিশ সদস্যকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারও পদোন্নতি তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
একাধিকবার গুরুদণ্ডে দণ্ডিতদের চাকরিচ্যুত ও পদাবনতিসহ বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক পর্যন্ত চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৮০ জনকে। পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪০ জনকে লঘুদণ্ড ও চারজনকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এএসপি থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র চারজনকে চাকরিচ্যুত এবং ১০ জনকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১২ সালে সারাদেশে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।পুলিশকে শাস্তি প্রদানের একটি মজার দিকও রয়েছে। বড় বড় অপরাধেও পুলিশকে 'ক্লোজ' করা হয়। এখানে শাস্তি শেষ। অনেক সময় অনেক অপরাধী পুলিশ 'প্রাইজ পোস্টিং'ও পেয়ে থাকেন।সূত্র:সমকাল
ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





