বাংলাদেশের অন্যতম সাহসী বুদ্ধিজীবী, সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুর করিমের (পিয়াস করিম) প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

গত বছরের ১৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা যান পিয়াস করিম।

সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে কমিউনিজম কায়েম করতে কিশোর পিয়াস শহীদ সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে পড়াশোনা করতে আমেরিকা চলে যান। দেশে ফিরে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে তার। জাতীয় মুক্তি অর্জনকে রাজনৈতিক কর্তব্য জ্ঞান করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

মৃত্যুর আগের কয়েকটি বছর ড. পিয়াসের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্টতা বাড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করতে জনমত তৈরিতে টিভি টকশো, সভা-সমিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান তিনি।

ফলে আজীবন প্রগতিশীল এ মানুষটি আওয়ামী লীগপন্থী মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কট্টর আক্রমণ ও অপবাদের শিকার হন তিনি। তারা তাকে রাজাকারপুত্র বলেছিল।

ড. পিয়াস করিমের জন্ম ১৯৫৮ সালে কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার রামপুর গ্রামে। তিনি কুমিল্লা মডার্ন স্কুল, কুমিল্লা জিলা স্কুল এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন।

এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানকার ইউভার্সিটি অব ন্যাবরাস্কায় তিনি পড়াশোনা করেন। ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি নেন।

পড়াশোনা শেষ করে ড. পিয়াস করিম সেখানকার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। দেশে ফিরে ২০০৭ সালে তিনি বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

এমএইচ