“কাম না করলে খামু কি, দিবসে তো আর পেট চলতো না। সারা দিন কাম কইরা যা পাই তাই বউ পুলা-মাইয়্যা লইয়া কোন রকমে পেট চালাই।” দারিদ্রতার কষাঘাতে নিষ্পেষিত ময়মনসিংহ শহরের দাপুনিয়া থেকে আসা রিক্সা চালক মতিন মিয়া (৫০) এভাবেই তার হতাশা প্রকাশ করলেন।

মতিন মিয়ার মতো হাজারো মানুষ দিন আনে দিন খায় তাদের কোন দিবসের অপেক্ষা নেই। তাদের নেই কোন ঈদ নেই কোন পুজা। সব সময় চিন্তা করতে হয় আজ তারা কি খাবে, কাল কি পড়বে। সারা দিন পরিশ্রম করেও তাদের চিন্তা করতে হয় কাল উপার্জন করতে পারবো তো? ছেলে মেয়েদের খাওয়াতে পারবো তো?

১লা মে মহান শ্রমিক দিবসে কথা হল এই শ্রমিকের সাথে যিনি পেটের দায়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন। ১ লা মে তে সকল শ্রমিকরা ছুটি কাটালেও সারাদিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন মতিন মিয়া।

শ্রমিক দিবস আসলে ব্যস্ত থাকেন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সকল সংগঠনগুলো। সংগঠনগুলোর বক্তব্য থাকে একজন শ্রমিক কারখানায় কয় ঘন্টা কাজ করবে, সর্বনিম্ন বেতন কত হবে, ওভারটাইম কাজের পারশ্রমিক কত হবে, বিনা কারণে শ্রমিক ছাটাই করা যাবে না, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে হবে, আরো কত কি।

কিন্তু একটি সংগঠনেরও বক্তব্যে উঠে আসে নাই মতিন মিয়ার মতো যারা দৈনিক রোজে কাজ করেন, যারা কোন অফিস বা কারখানায় কাজ করে না, যাদের কোন সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই। তাহলে এসব খেটে খাওয়া মানুষরা কি শ্রমিক নন? তাহলে তাদের কি কোন অধিকার নেই?

তাই সকল শ্রমিক সংগঠনদের উচিত শুধু মাত্র গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ না করে বাংলাদেশের সকল শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা, যে সব কারখানা বন্ধ করা হয়েছে তা খুলে দেয়ার জন্য আন্দোলন করা, যেসব সংবাদ পত্র-মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে তা খুলে দেয়ার জন্য আন্দোলন করা।

আর যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কথা, তাদের কষ্ট গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা। যাতে একদিন ঘরে বসে থাকলে খাবারের চিন্তা তাদের না করতে হয়।

ইআর