আজ ১৯ জানুয়ারি, 'জাতীয় শিক্ষক দিবস'। ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে এ দিবসটি শুরু হয়েছে। এ দিন বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার নিয়ে তত্কালীন সরকার এ দিবসটি চালু করে। দিবস হিসেবে এটি একেবারে নতুন। তবে, জাতীয় শিক্ষক দিবস পালনে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ ও কর্মসূচি নেই।
খুব সহজভাবেই এখন কোথাও কোথাও ব্যক্তি উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। শুরুতে এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো 'জাতি গঠনে শিক্ষক'। শুরু থেকেই শিক্ষকরা জাতি গঠনে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু শিক্ষকরা কতটুকু মর্যাদা পাচ্ছে?
যদি ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ হয় তাহলে একটি উন্নত দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার ভূমিকা, গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। সমগ্র বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, যে জাতি বা দেশের শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ যত উন্নত, দেশ ও জাতি হিসেবে সার্বিকভাবে তারাই উন্নত ও স্বয়ংসম্পন্ন।
কিন্তু এই শিক্ষকরা আজ কেন বঞ্চিত? শিক্ষক সমাজ কেন আজ বৈষম্যের শিকার। আজ আমরা কি দেখছি। শিক্ষকরা দাবি আদায় করতে পথে নামছে। কিল ঘুষি লাথি খাচ্ছে। কেন পিপার স্প্রে করা হচ্ছে শিক্ষকদের ওপর?
রাষ্ট্রের প্রতি রাষ্ট্রের কোন নাগরিকের দাবি থাকতেই পারে। শিক্ষকরাও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কেন রাজপথে জায়গা হচ্ছে না? তাদের কি কোথাও দাঁড়ানোর অধিকারও নেই? রাজধানী ঢাকার মাটি কি শিক্ষদের জন্য নয়? তাদের সাথে কেন বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে?
মা-বাবার সাথে তুলনা করা হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। বাবা-মা যেমন সন্তানদের ভালবাসা, স্নেহ, মমতা দিয়ে বড় করেন, ঠিক তেমনি আমাদের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার আলো দিয়ে আমাদের ভবিষ্যত্ গড়ে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যান।
স্নেহ, মমতা, ভালবাসা তো বটেই। তাদের শিক্ষার আলো যেমন শিক্ষার্থীদের সামনের পথ চলাকে আরও সুদৃঢ় করে, তেমনি তাদের স্নেহ, মমতা, ভালবাসা তাদের অনুপ্রাণিত করে। সেই শিক্ষকরা ভাল আছেন তো ?
প্রকৃতপক্ষে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার শতকরা ৯০ ভাগই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পাহাড়প্রমাণ বৈষম্য। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যেমন ছিল না কোনো চাকরিবিধি, তেমনি ছিল না কোনো বেতন স্কেল।
শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে এ যাবত্ বহু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়েছে খুব কমই।
একজন শিক্ষকের দিন শুরু হয় পান্তা ভাত, একটি মরিচ সাথে আরো এক টুকরা পেঁয়াজ খেয়ে। এরমধ্যে সন্তানদের আবার কত বায়না তার ইয়ত্তা নেই। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আবার গৃহিণীর কড়া নির্দেশ বাড়ি আসবার সময় চাল নিয়ে আসবে।
এতসব ঝামেলা নিয়েও রোদ, বৃষ্টি ও ঝড় উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে যেয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হয়। তাদের একথা কেউ কোনদিন চিন্তা করেছেন কি? আমাদের কপাল মন্দ যে একজন শিক্ষক তার নায্য দাবি আদায় করতে যেয়ে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন।
শিক্ষকরা রাজপথে এসে লাঞ্ছিত হচ্ছেন। একজন শিক্ষকের দাবি-দাওয়া অন্যায্য হতে পারে। কিন্তু তাদের ওপর নির্যাতন কেন? বৈঠক করে তবেই সমাধান বের করতে হবে। শিক্ষক সর্বত্রই বিরাজমান। প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকের বাইরেও আমাদের অসংখ্য শিক্ষক রয়েছেন।
সবার কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবে গভীর শ্রদ্ধা ও পরম মমতাবোধের মাধ্যমে। তাই শিক্ষক সমাজকে মর্যাদা দিতে হবে। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকদের সকল সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আলোচনা। পিপার গ্যাস নয়; আলোচনার টেবিলেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর সরকার শিক্ষকদের বর্তমান সমস্যা নিয়ে অতিদ্রুত অলোচনায় বসে তা সমাধানে সচেষ্ট হবেন এটাই জাতীয় শিক্ষক দিবসে আমাদের কাম্য।
এমকে





